কি উদ্দেশ্যে কোরআন নাজিল হয়েছে? বিপরীতে আমরা কি করছি?

Spread the love

কি উদ্দেশ্যে কোরআন নাজিল হয়েছে? বিপরীতে আমরা কি করছি?

আল্লাহ বলেন: ‘কোরআন সমগ্র মানব জাতির জন্য হেদায়াত, সুস্পষ্ট পথ-নির্দেশ এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী ’(বাকারা:১৮৫) ‘তোমরা এর অনুসরণ কর এবং নিষিদ্ধ সীমা পরিহার করে চল।’(আনআম:১৫৫) ‘বুদ্ধিমান লোকেরা যেন একে গভীর ভাবে অধ্যয়ন ও চিন্তা-ভাবনা করে।’(সোয়াদ:২৯)

কিন্তু আমরা যারা আরবী ভাষা জানিনা। কোরআনের অর্থ বুঝিনা। তারা কিভাবে কোরআনের নির্দেশনাকে ’’অনুসরণ’’ করবো? আর কিভাবেই বা কোরআনকে ’’গভীর ভাবে অধ্যয়ন ও চিন্তা-ভাবনা’’ করবো?

অর্থ না বোঝার কারনে আমাদের জীবন পরিচালনার এই ঐশী ম্যানুয়ালটি আমাদের কাছে আজ জটিল ও দুর্বোধ্য! অথচ আল্লাহ বলছেন: ‘নিঃসন্দেহে এ কোরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা একেবারেই সহজ-সরল।’(বনি ইসরাঈল:৯)

কেউ যদি নিয়মিতভাবে এমন একটি বই পড়ে যে বইটির ভাষা সে জানে না। কি লেখা আছে কিছুই বোঝে না। কিন্তু গ্রন্থটি সে খুবই শুদ্ধ করে পড়তে পারে। অথচ তার অর্থ কিছুই জানে না। জানার চেষ্টাও করে না। আবার সেই ব্যক্তি দাবী করে যে, সে ঐ গ্রন্থকে এবং গ্রন্থের লেখককে সবচেয়ে বেশী ভালোবাসে। অথচ লেখকের কোন নির্দেশনাই বোঝে না। না বোঝার কারনে গ্রন্থের নির্দেশনাসমূহ মানতেও পারে না। এমতাবস্থায় ঐ গ্রন্থ ও গ্রন্থ-প্রণেতার প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার দাবী কতটা গ্রহণযোগ্য হবে?

আমরা যারা আরবি ভাষা জানি না। আরবি ভাষার অর্থও জানি না। তারা যদি শুধুই কোরআন তেলাওয়াত করি। আলহামদুলিল্লাহ তাহলেও অফুরন্ত সওয়াব হবে নিঃসন্দেহে। এটা আল্লাহর অপার নেয়ামত। এটা বরকতপূর্ণ এই ঐশীগ্রন্থের একটি অন্যতম মোজেজা। মহাগ্রন্থ আল কোরআন বিশুদ্ধ করে তেলাওয়াত করাও প্রত্যেকের জন্য ফরজ। কিন্তু তাতে কোরআন নাজিলের মূল উদ্দেশ্য বা কোরআন পড়ার হক কতটুকু আদায় হবে -তা কি কখনও ভেবে দেখেছি?

আল্লাহ কোরআন নাজিল করেছেন এর শিক্ষা ও নির্দেশনাকে জেনে, বুঁঝে, মেনে চলার জন্য। কোরআনের শিক্ষা ও নির্দেশনাকে যদি না-ই জানি। না-ই বুঝি। তাহলে কোরআন থেকে কি করে হেদায়াত নেয়া সম্ভব? আল্লাহ নিজেই বলছেন: ‘এটা কি করে সম্ভব হতে পারে যে, যে ব্যক্তি তোমার আল্লাহর এই কিতাবকে, যা তিনি তোমার প্রতি নাযিল করেছেন, সত্য বলে জানে; আর যে ব্যক্তি এ মহাসত্য সম্পর্কে অজ্ঞ-অন্ধ; তারা দুজনই সমান হতে পারে? উপদেশ তো বুদ্ধিমান লোকেরাই কবুল করে থাকে।’(সূরা রা’দ:২০)

আজকে আমরা আল্লাহর ঐশী গ্রন্থ না বোঝার কারণে কোরআনকে সঠিক মর্যাদা দিতে পারছিনা। কোরআনের শিক্ষা ও নির্দেশনা না বুঝার কারনে আল্লাহর হুকুমকে বাদ দিয়ে দূর্ভাগ্যজনকভাবে যতসব ভন্ড পীর, ফকির, নেতা, ধনবান, ক্ষমতাবান, দুনিয়ার বাহাদুরদের হুকুমের অধীনে চলে যাচ্ছি! অথচ এ সম্পর্কে আমাদের ভাবাবেগটা পর্যন্ত যেন আজ মরে গেছে। যেমনটা আল্লাহ বলেছেন: ‘আমি যদি এই কোরআনকে কোন পাহাড়ের উপরও নাযিল করতাম, তাহলেও তুমি দেখতে যে, সে পাহাড় আল্লাহর ভয়ে কেমন বিদীর্ণ হয়ে যাচ্ছে! এই দৃষ্টান্ত গুলো আমি এ জন্য দেই, যেন লোকেরা নিজেদের অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে।’(হাশর:২১)

ইসলাম জীবনমুখি ও বুদ্ধিবৃত্তিক একটি পূর্নাঙ্গ বাস্তবিক জীবন বিধান। মূর্খতা ও বৈরাগ্যবাদের সাথে ইসলামের কোনরকমের সম্পর্ক নেই। তাই আমাদেরকে আত্মজিজ্ঞাসা করতে হবে। চিন্তা-গবেষণা ও বিবেক-বুদ্ধিকে কাজে লাগাতে হবে। কারণ যারা জ্ঞান-বিমুখ তারা আল্লাহর সৃষ্টি সম্পর্কে কি করে ভাববে? কি করে চিন্তা-গবেষণা করবে? যেমনটা আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন বলছেন: ‘….তাদের অন্তর আছে কিন্তু তারা তার সাহায্যে চিন্তা-ভাবনা করে না; তাদের চোখ আছে কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না; তাদের শ্রবনশক্তি আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না(আরাফ:১৭৯)। ‘….তাদের মত হয়ে যেয়ো না, যারা বলে, আমরা শুনলাম; কিন্তু আসলে তারা শোনে না। নিশ্চিত জেনো, আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম পশু, বধির ও বোবা হচ্ছে সেসব মানুষ, যারা নিজেদের বিবেক ও বুদ্ধিকে কাজে লাগায় না..।’ (আনফাল : ২০-২৩)

বিশ্বব্যাপী আজ মুসলমানদের যে বিপর্যয়। তা আল্লাহর কালামকে তার ন্যয্য ও কাঙ্ক্ষিত মর্যাদা না দেবার কারনে। আমরা যখন থেকে কোরআনকে ছেড়ে দিয়েছি, বিজয়ও তখন থেকেই আমাদেরকে ছেড়ে দিয়েছে।

কি উদ্দেশ্যে কোরআন নাজিল হয়েছে? বিপরীতে আমরা কি করছি? কি উদ্দেশ্যে কোরআন নাজিল হয়েছে? বিপরীতে আমরা কি করছি? কি উদ্দেশ্যে কোরআন নাজিল হয়েছে? বিপরীতে আমরা কি করছি? কি উদ্দেশ্যে কোরআন নাজিল হয়েছে? বিপরীতে আমরা কি করছি? কি উদ্দেশ্যে কোরআন নাজিল হয়েছে? বিপরীতে আমরা কি করছি?

Leave a Reply

Your email address will not be published.