ডায়রিয়া/কলেরা হলে করনিও

Spread the love

ডায়রিয়া/কলেরা হলে করনিও

 হঠাৎ করেই গরম পরে গিয়েছে অনেক বেশি।সাথে সাথে পাল্লা দিয়েই যেনো বেড়ে গিয়েছে ডায়রিয়া/ কলেরার প্রাদুর্ভাব। ঘরে ঘরে আক্রান্ত। হাসপাতালে স্থান সংকুলান হচ্ছেনা। আইসিডিডিআরবির দেওয়া তথ্যমতে গত ৬০ বছরে এতো বেশি ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর চাপ হাসপাতালটিতে হয়নি।এই অবস্থা চলতে থাকলে খুব শীঘ্রই ডায়রিয়া মহামারীর আকার ধারণ করবে।দুঃখজনক তথ্য হচ্ছে এদের মধ্যে শিশু আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি।

ডায়রিয়া কি?

সহজ ভাষায় কেউ যদি ১ দিনে ৩ বার বা তার বেশি পানির মতো পাতলা পায়খানা হলে,তাকে ডায়রিয়া আক্রান্ত বলা যায়।

কি দিয়ে হয়?

এটি মূলত পানিবাহিত রোগ।তাই মূলত পানি দিয়েই এটি ছড়ায়।যা, -ব্যাকটেরিয়া -ভাইরাস –প্যারাসাইট দিয়ে হয়।

ডায়রিয়া/কলেরা হলে করনিও
কেনো হয়?

অস্বাস্থ্যকর পানীয়( নোংরা খোলা পানি ব্যাবহার করে যেসব খাবার তৈরী হয়-আখের রস,শরবত) -অস্বাস্থ্যকর খাবার( বাসী,পচা,পুরোনো তেলে ভাজা,রাস্তার পাশের মাছি বসছে এমন খোলা জায়গার খাবার), -আক্রান্ত ব্যাক্তির মাধ্যমে, -অপরিষ্কার হাতে খাবার তৈরী করলে, -শিশুকে বোতলজাত দুধ খাওয়ানোর সময় ভালো করে পরিষ্কার না করলে।

লক্ষনঃ

৩ বার বা তার বেশি পানির মতো পাতলা পায়খানা। -পায়খানার সাথে রক্ত থাকতেও পারে নাও পারে। -পেটে ব্যাথা থাকতে পারে। -বমি অথবা বমি ভাব, -জ্বর, -সারা গায়ে ব্যাথা, -মুখ শুকিয়ে এলে,পিপাসা বেড়ে গেলে।

করনীয়ঃ –

বার বার তরল খাবার দিতে হবে। -প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর ওরস্যালাইন খাওয়াবেন।(বড়দের ক্ষেত্রে আধা থেকে ১ গ্লাস, আর শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স এবং ওজন ভেদে চিকিৎসক এর পরামর্শে), সাথে স্বাভাবিক পুষ্টিকর খাবার চলবে। -ডাবের পানি,চিড়ার পানি,টক দই,চিকেন স্যুপ পাশাপাশি খাওয়াতে পারেন। -কাচা কলার তরকারি ,জাউ ভাত খাওয়াতে পারেন। -পানিশূন্যতা রোধে বার বার বিশুদ্ধ পানি পান করবেন।

আরও পড়ুন:- ইউরিন ইনফেকশন কি এবং এর লক্ষন ও প্রতিকার

প্রতিকারঃ –

প্রতিবার খাওয়ার আগে এবং টয়লেট থেকে বের হয়ে সাবান দিয়ে খুব ভালো করে হাত ধুবেন। -ফিল্টার করার আগে পানি ৩০ মিনিট ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিবেন। -বাচ্চাকে ৬ মাস পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ খাওয়ান। -৬ মাস পর বাড়তি খাবারের পাশাপাশি বাইরের দুধ দিলে যেই বোতলে দুধ বানান তা আগে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে পরে গরম পানিতে ফুটিয়ে নিবেন। –জন্মের ৬ মাসের ভেতর বাচ্চাকে রোটা ভাইরাসের টিকা দিন। -প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের হবেন না অথবা অযথা রোদে ঘুরাঘুরি করবেন না।

পানি বাহীত রোগ
কখন এবং কাদের নিবেন হাসপাতালেঃ –

অনবরত পাতলা পায়খানা হয়ে শরীর পানিশূন্য হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, -অনবরত বমি হতে থাকলে, -খিচুনি হলে, -মাঝারি থেকে বেশি জ্বর থাকলে, -শরীর অবশ হয়ে এলে, -কিডনী,ডায়াবেটিস, হার্টের রোগী ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে, -হাত পা ঠান্ডা হয়ে এলে, -শিশু যদি পাতলা পায়খানায় নেতিয়ে যায় এবং বুকের দুধ খেতে না পারে।

জটিলতাঃ         

 ডায়রিয়া থেকে নানান শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে- -ইলেক্ট্রোলাইটসের অসামঞ্জস্যতা। -কিডনির জটিলতা, -পানিশূন্যতা, -শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াহলে করনিও

ডায়রিয়া/কলেরা হলে করনিও ডায়রিয়া/কলেরা হলে করনিও ডায়রিয়া/কলেরা হলে করনিও ডায়রিয়া/কলেরা হলে করনিও

Dr. Mahfuza Hussain Bithi
MBBS, FCGP, Diploma in Asthma,
C-Card(National Heart Foundation),
PGT(Dhaka Medical College),
CCD(Diabetology- BIRDEM), DMU.    
ডায়রিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published.