সূদ ও ঘুষ নিয়ে ঘঠন মূলক বর্ণনা
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানুষের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক জীবনের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইসলামে যেসব কাজকে বড় গুনাহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তার মধ্যে সূদ (রিবা) ও ঘুষ (রিশওয়াহ) অন্যতম। এই দুইটি কাজ সমাজে জুলুম, অবিচার ও নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টি করে। কুরআন ও হাদিসে সূদ ও ঘুষ সম্পর্কে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
সূদ (রিবা) কী?
সূদ অর্থ হলো ঋণের উপর শর্তসাপেক্ষ অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ। সহজ ভাষায়, কাউকে টাকা ধার দিয়ে নির্দিষ্ট সময় পর মূল টাকার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়াকেই সূদ বলা হয়।
সূদের প্রকারভেদ
- সূদে নাসিয়া: সময়ের বিনিময়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া
- সূদে ফজল: একই পণ্যের অসম বিনিময়
ইসলামে উভয় প্রকার সূদই হারাম।
কুরআনে সূদ সম্পর্কে কঠোর ঘোষণা
কুরআনে সূদকে শুধু হারামই নয়, বরং ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১. সূদকে হারাম ঘোষণা
“আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন।”
(সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)
২. সূদখোরদের জন্য ভয়াবহ সতর্কতা
“যারা সূদ খায়, তারা কিয়ামতের দিন দাড়াবে পাগলের মতো।”
(সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)
৩. আল্লাহ ও রাসূলের সঙ্গে যুদ্ধ
“যদি তোমরা সূদ পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা শুনে নাও।”
(সূরা আল-বাকারা: ২৭৯)
👉 কুরআনে আর কোনো গুনাহের ব্যাপারে আল্লাহ এমন যুদ্ধের ঘোষণা দেননি।
হাদিসে সূদের ভয়াবহতা
রাসূলুল্লাহ ﷺ সূদকে সবচেয়ে বড় গুনাহগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
১. সূদের সাথে জড়িত সবাই অভিশপ্ত
“রাসূল ﷺ সূদগ্রহীতা, সূদদাতা, লেখক ও সাক্ষীদের অভিশাপ দিয়েছেন।”
(সহিহ মুসলিম)
২. সূদের একটি অংশের গুনাহ
“এক দিরহাম সূদ খাওয়া ৩৬ বার ব্যভিচারের চেয়েও বড় গুনাহ।”
(মুসনাদ আহমাদ)
সূদের সামাজিক ক্ষতি
- ধনী আরও ধনী হয়
- গরিব আরও গরিব হয়
- সমাজে বৈষম্য বাড়ে
- মানবিকতা ও সহানুভূতি নষ্ট হয়
- অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়
ঘুষ (রিশওয়াহ) কী?
ঘুষ হলো অন্যায় সুবিধা আদায়ের জন্য গোপনে বা প্রকাশ্যে অর্থ বা উপহার দেওয়া বা নেওয়া। এটি ব্যক্তি ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
কুরআনে ঘুষ সম্পর্কে বর্ণনা
“তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের সম্পদের একাংশ অন্যায়ভাবে গ্রাস করার জন্য বিচারকদের কাছে তা পৌঁছিও না।”
(সূরা আল-বাকারা: ১৮৮)
এই আয়াতে স্পষ্টভাবে ঘুষের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে অধিকার আদায় করতে নিষেধ করা হয়েছে।
হাদিসে ঘুষের ভয়াবহ পরিণতি
১. ঘুষদাতা ও গ্রহীতা উভয়ই অভিশপ্ত
“ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়ের ওপর আল্লাহর লানত।”
(সুনানে তিরমিজি)
২. বিচার ব্যবস্থায় ঘুষ
“যে ব্যক্তি বিচারকের কাছে ঘুষ দেয়, সে জাহান্নামের আগুনের উপযুক্ত।”
(মুসনাদ আহমাদ)
ঘুষের সামাজিক ও নৈতিক ক্ষতি
- ন্যায়বিচার ধ্বংস হয়
- যোগ্য ব্যক্তি বঞ্চিত হয়
- দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়
- রাষ্ট্র ও সমাজ দুর্বল হয়
- আল্লাহর রহমত উঠিয়ে নেওয়া হয়
সূদ ও ঘুষ: কেন এত বড় গুনাহ?
ইসলাম চায়—
- ন্যায়ভিত্তিক সমাজ
- পারস্পরিক সহযোগিতা
- শোষণমুক্ত অর্থনীতি
- আল্লাহভীরু মানুষ
কিন্তু সূদ ও ঘুষ—
- শোষণ সৃষ্টি করে
- অন্যায়কে বৈধ করে
- মানুষের হক নষ্ট করে
- আল্লাহর অসন্তোষ ডেকে আনে
সূদ ও ঘুষ থেকে বাঁচার উপায়
ব্যক্তিগতভাবে
- হালাল উপার্জনের সংকল্প
- আল্লাহভীতি ও তাকওয়া
- অল্পে তুষ্ট থাকা
সামাজিকভাবে
- ইসলামী অর্থব্যবস্থা চালু
- ঘুষবিরোধী সামাজিক আন্দোলন
- নৈতিক শিক্ষা জোরদার করা
তওবা ও আল্লাহর রহমত
যদি কেউ অজান্তে বা জেনে সূদ বা ঘুষে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তবে খাঁটি তওবা করলে আল্লাহ ক্ষমা করেন।
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন।”
(সূরা আল-বাকারা: ২২২)
তওবার শর্ত:
- গুনাহ ছেড়ে দেওয়া
- অনুতপ্ত হওয়া
- ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা
- অন্যের হক থাকলে ফেরত দেওয়া
উপসংহার
সূদ ও ঘুষ শুধু ব্যক্তিগত গুনাহ নয়, বরং পুরো সমাজ ধ্বংসের কারণ। কুরআন ও হাদিসে এ দুই অপরাধ সম্পর্কে যে কঠোর সতর্কতা এসেছে, তা আমাদের জন্য যথেষ্ট। একজন মুসলমানের দায়িত্ব হলো হালাল পথে জীবন চালানো এবং সমাজকে সূদ ও ঘুষমুক্ত করার জন্য সচেষ্ট হওয়া। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই ভয়াবহ গুনাহ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।
সূদ ও ঘুষ নিয়ে ঘঠন মূলক বর্ণনা সূদ ও ঘুষ নিয়ে ঘঠন মূলক বর্ণনা সূদ ও ঘুষ নিয়ে ঘঠন মূলক বর্ণনা সূদ ও ঘুষ নিয়ে ঘঠন মূলক বর্ণনা সূদ ও ঘুষ নিয়ে ঘঠন মূলক বর্ণনা
গুম প্রতিরোধে নতুন অধ্যাদেশ জারি
বাংলাদেশে পেপ্যাল আসার সম্ভাবনা
সন্ধানী লাইফ ইন্সুরেন্স চাকরি বিজ্ঞপ্তি
