খেজুরের ৭ ধরনের স্বাস্থ্য উপকারিতা
রমজান মাস বাদ দিলে আমাদের দেশে খেজুর খাওয়া একটু কমই হয়ে থাকে। রোজা রাখার সঙ্গে খেজুরের একটি সম্পর্ক রয়েছে বলে বছরের অন্যান্য সময়ে আমরা অনেকেই খেজুর খাই না।
কিন্তু অসাধণ পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খেজুর আমাদের শরীরিক নানা সমস্যা দূর করতে বিশেষভাবে কার্যকর। আর তাই গড়ে প্রত্যেকের দিনে ৫ টি খেজুর খাওয়ার অভ্যাস রাখা উচিত। তাতে করে ১০ ধরনের শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
খেজুরের উপকারিতাঃ-
| হৃদপিন্ডের সমস্যা দূর করতেঃ- |
হৃদপিন্ডের সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন খেজুর খাওয়া অত্যান্ত জরুরি। খেজুরের ভেতরে থাকে নানা খনিজ উপাদান যা হৃদপিন্ডকে সুস্থ্য রাখতে বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। গবেষণায় দেখা যায়, পুরো রাত খেজুর পানিতে ভিজিয়ে সকালে পিষে খাওয়ার অভ্যাস করলে তা হার্টের রোগীর সুস্থ্যতায় কাজ দেয়।
খেজুরে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ, ক্যালমিয়াম,পটাশিয়ামের মতো উপাদান যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে থাকে। খেজুরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে। শরীরে এনার্জির অভাব বা দুর্বলতা কাটিয়ে তুলতে খেজুরের তুলনা অতুলনীও। একটি গবোষণায় দেখা যায় প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লিপিডের কোয়ালিটি উন্নত করতে সহায়তা করে দেহের সুগারের মাত্রা বাড়ানো ছাড়াই।
| কোলেস্টেরল কমায় |
খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং খুব কম পরিমাণে সোডিয়াম নামক উপাদান যার ফলে দেহের খারাপ কোলেস্টেরল দূর করে এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে থাকে। খেজুরে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম নামক উপাদান যা শরীরের উচ্চরক্তচাপ সমস্যা সমাধান করে থাকে। গবেষকদের মতে একটি খেজুরে প্রায় ২০ মি.গ্রা. ম্যাগনেসিয়াম থাকে। তাই সুস্থ্য থাকতে হলে নিয়মিত খেজুর খাওয়া প্রয়োজন।
| হজম সমস্যা সমাধান করে |
খেজুর হজম সমস্যা সমাধান করে থাকে। খেজুরের মধ্যে রয়েছে স্যলুবল এবং ইনস্যলুবল ফাইবার নামক উপাদান সহ বিভিন্ন ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড যা সহজে খাবার হজমে সহায়তা করে থাকে। যার ফলে খাবার হজম সংক্রান্ত সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায় এবং সুস্থ্য থাকা যায়।
| ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে |
নিয়মিত খেজুর খেলে ক্যান্সারের হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে খেজুর অ্যাবডোমিনাল ক্যান্সারের হাত থেকে রক্ষা করার ক্ষমতা রয়েছে।
| দৃষ্টি শক্তি বাড়ায় |
খেজুর দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে বিশেষভাবে সহায়ক। প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাসে রাতকানা রোগ ভালো করতেও সাহায্য করে থাকে। খেজুর চোখের রেটিনাকে সুস্থ্য রাখতে লিউটেন এবং জিক্সাথিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
| রক্তস্বল্পতা দূরকরে |
খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিাণে আয়রন যা প্রতিদিন দেহের রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়তা করে। প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস দেহের আয়রনের অভাব পূরণ করে এবং রক্তস্বল্পতা রোগের হাত থেকে রক্ষা করে থাকে। যাদরে এই রক্তস্বল্পতার সমস্যা রয়েছে তাদের প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।
| কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সমাধান |
খেজুর কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধান করতে সহায়তা করে। খেজুর হলো ল্যাক্সেটিভ ধরনের খাবার তাই যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা রয়েছে তারা খুব সহজেই কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন। প্রতিদিন খেজুর খাওয়ার অভ্যাসের মাধ্যমেই এই সমস্যা সমাধান সম্ভব।
আরও পড়ুনঃ-
চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখবে যে ৭ টি খাবার
লাল শাকের উপকারীতা এর পুষ্টি গুন
কাঁকরোলের পুষ্টি উপাদান এবং এর উপকারীতা
আয়রন জাতীয় খাবার কি এর অভাব জনিত রোগ এবং এর উপকারীতা
