অন্ধকার ঘরে কি নামাজ পড়ার বিধান আছে?
অন্ধকার ঘরে নামাজ আদায়ের বিধান ও রাসূলুল্লাহ (সা.) এর উদাহরণ
নামাজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এটি মুসলিমদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যম। অনেক সময় আমাদের জীবন পরিস্থিতি এমন হয় যে আমরা আলো না থাকা অবস্থায় নামাজ আদায় করতে হতে পারি। এই ক্ষেত্রে অনেকেই সন্দিহান হন—অন্ধকার ঘরে নামাজ আদায় করা কি বৈধ, মাকরূহ, নাকি হারাম? ইসলামিক শাস্ত্র ও হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি, অন্ধকার ঘরে নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ বৈধ এবং জাযেয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) এর উদাহরণ
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এক রাতে তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বিছানায় খুঁজতে গিয়ে দেখলেন, তিনি সিজদায় আছেন। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন:
“আমি আমার হাত দিয়ে তাঁর পদযুগল খুঁজতে লাগলাম। তখন তাঁর পা খাড়া ছিল এবং তিনি সিজদায় অবস্থান করছিলেন। তিনি বলছিলেন:
أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি তোমার ক্রোধ হতে, তোমার সন্তুষ্টির জন্য। তোমার শাস্তি থেকে তোমার ক্ষমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করছি তোমার দিক থেকে। তোমার প্রশংসা করতে আমার সীমা নেই; তুমি নিজেই যেমন নিজের প্রশংসা করেছ।”
(সুনান নাসাঈ, হা/১৬৯, সহীহ)
এটি দেখায় যে, রাসূল (সা.) অন্ধকার বা আলো না থাকা সত্ত্বেও নামাজ আদায় করতেন এবং আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। এটি মুসলিমদের জন্য আধ্যাত্মিক শিক্ষা যে, নামাজের জন্য আলো থাকা শর্ত নয়; ভয়, সজাগতা ও আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসই মূল বিষয়।
আরেকটি হাদিসের বর্ণনা
হযরত আয়েশা (রা.) আরও বর্ণনা করেছেন:
“আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সামনে ঘুমাতাম। আমার পা দুটি তাঁর কিবলার দিকে ছিল। যখন তিনি সিজদায় যান, তখন আমার পায়ের উপর মৃদু চাপ দিতেন; আমি পা দুটি সংকুচিত করতাম। তিনি দাঁড়ালে পা দুটি প্রসারিত করতাম। সে সময় ঘরগুলোতে কোনো বাতি ছিল না।”
(সহীহ; বুখারী ৩৮২, মুসলিম ২৭২)
এই হাদিস স্পষ্টভাবে দেখায় যে রাসূল (সা.) অন্ধকার ঘরে নামাজ আদায় করতেন। অর্থাৎ নামাজের জন্য আলো থাকা কোনো শর্ত নয়।
নামাজে আলো থাকা কি বাধ্যতামূলক?
কিছু লোক মনে করে, নামাজ আদায় করার জন্য আলোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। এটি ভুল ধারণা। হাদিস ও ইসলামিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নামাজ আদায় করার জন্য আলোর কোনো শর্ত নেই। রাসূল (সা.) নিজেই অন্ধকার ঘরে নামাজ আদায় করেছেন।
- নামাজের মূল উদ্দেশ্য হল আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর প্রতি দায়িত্ব পালন।
- আলো থাকা বা না থাকা কোনো প্রভাব ফেলে না।
- অন্ধকারে নামাজ পড়ার সময়ও তর্কযোগ্য নয় বা মাকরূহ নয়।
অতএব, যারা বলেন “অন্ধকার ঘরে নামাজ মাকরূহ” তারা হাদিসের সঙ্গে বিরোধ করছেন।
অন্ধকারে নামাজ পড়ার সুবিধা
অন্ধকারে নামাজ আদায় করার কিছু বিশেষ সুবিধা রয়েছে:
- সচেতনতা ও খোদার ভয় বৃদ্ধি
অন্ধকারে নামাজ পড়ার সময় ব্যক্তি আল্লাহর উপর আরো বেশি মনোনিবেশ করতে পারে। - বিনয় ও নম্রতা বৃদ্ধি
অন্ধকার পরিবেশে মানুষ প্রাকৃতিকভাবে বিনয়ী ও নম্র হয়ে ওঠে। - মনোযোগ ও একাগ্রতা
আলো না থাকার কারণে বাহ্যিক বিচ্ছিন্নতা কমে যায়। ফলে নামাজে একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়। - সাদাসিধে বাস্তবতা শেখানো
এটি শিক্ষা দেয় যে নামাজের জন্য জায়গা বা আলোকসজ্জা প্রয়োজন নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো আধ্যাত্মিক সংযোগ।
উপসংহার
- হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, অন্ধকার ঘরে নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ বৈধ এবং জাযেয়।
- নামাজের জন্য আলো থাকা শর্ত নয়।
- রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেই অন্ধকার ঘরে নামাজ আদায় করেছেন এবং আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন।
- যারা বলেন, “অন্ধকার ঘরে নামাজ মাকরূহ,” তারা হাদিসের সঙ্গে বিরোধ করছেন।
অতএব, মুসলিমদের জন্য এটি একটি স্পষ্ট নির্দেশনা যে, যে কোনো পরিস্থিতিতে, যে কোনো ঘরে নামাজ আদায় করা যায়। আলো না থাকলে হতাশ হবার কোনো কারণ নেই। নামাজের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর প্রতি ভক্তি, ইবাদত এবং সচেতনতা।
উপদেশ ও শিক্ষণীয় বিষয়
নামাজের জন্য আলো থাকুক বা না থাকুক, নামাজ আদায় করুন।
অন্ধকারে নামাজ পড়ার সময় আল্লাহর প্রতি আরও একাগ্র থাকুন।
পরিবার ও সন্তানদের শিক্ষা দিন যে, নামাজের জন্য আলোর প্রয়োজন নেই।
অন্ধকার ঘরে নামাজ পড়া কি جائز? অন্ধকার ঘরে নামাজ পড়া কি جائز? অন্ধকার ঘরে নামাজ পড়া কি جائز? অন্ধকার ঘরে নামাজ পড়া কি جائز? অন্ধকার ঘরে নামাজ পড়া কি جائز?
গুম প্রতিরোধে নতুন অধ্যাদেশ জারি
বাংলাদেশে পেপ্যাল আসার সম্ভাবনা
সন্ধানী লাইফ ইন্সুরেন্স চাকরি বিজ্ঞপ্তি
