প্লুটোর বরফ আগ্নেয়গিরি সৌরজগতের বিস্ময়বরফের অগ্নেয়গিরি প্লুটোর বুকে

প্লুটোর বরফ আগ্নেয়গিরি সৌরজগতের বিস্ময়

প্লুটোর বুকে বরফের আগ্নেয়গিরির সন্ধান: সঙ্গীতময় পৃথিবীর রহস্য

সূর্য থেকে প্রায় ৪.৬ বিলিয়ন কিমি দূরে অবস্থানকারী প্লুটোকে অতীতকাল ধরে রহস্যময় গ্রহ হিসেবে ধরা হয়। ছোট আকার, অত্যন্ত শীতল তাপমাত্রা এবং সূর্যের আলো প্রায় অপ্রতুল হওয়ায় এই পৃথিবী বহুবার মহাকাশ গবেষকদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি নাসার নিউ হরাইজনস মিশন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্লুটোর পৃষ্ঠের নিচে সম্ভবত বরফের আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যা এই ক্ষুদ্র গ্রহকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

প্লুটোর বুকে বরফের আগ্নেয়গিরির সন্ধান

বরফের আগ্নেয়গিরি কীভাবে সম্ভব?
প্লুটো অত্যন্ত ঠাণ্ডা গ্রহ। তার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রায় -230 ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে নিউ হরাইজনসের পর্যবেক্ষণ দেখিয়েছে যে, প্লুটোর পৃষ্ঠে কিছু অঞ্চল অস্বাভাবিকভাবে নতুন এবং হ্রাসহীন পরিবর্তনশীল। বিশেষ করে, ‘Sputnik Planitia’ নামে একটি বিশাল বরফ ময়দান, যা অবিরাম বরফের বিস্তার এবং আগ্নেয়গিরি ক্রিয়াকলাপের আভাস দেয়। এর মূল উপাদান হলো নাইট্রোজেন, মিথেন এবং কার্বন মনোক্সাইড বরফ।

বরফের আগ্নেয়গিরি মূলত ভূ-উষ্ণতা বা জিওথার্মাল শক্তি দ্বারা চালিত হয়। প্লুটোর ভিতরে অবস্থিত চুনাপাথর বা রক ম্যাটেরিয়াল তাপ উৎপন্ন করে যা বরফের স্তরকে গলাতে পারে। গলিত বরফের চাপ এবং ভলকানিক প্রসার পৃষ্ঠে আগ্নেয়গিরির মতো গঠন সৃষ্টি করে। এই ধরনের “ক্রায়োভলকানিজম” আমাদের সৌরজগতে অন্যান্য বরফযুক্ত গ্রহ ও উপগ্রহেও দেখা গেছে।

আরও পড়ুনঃ-হরমুত প্রণালী কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ

প্লুটোর বুকে বরফের আগ্নেয়গিরির সন্ধান প্লুটোর বুকে বরফের আগ্নেয়গিরির সন্ধান

বরফের অগ্নেয়গিরি

নতুন গবেষণার ফলাফল
নিউ হরাইজনস মিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্লুটোর বুকে একাধিক ছোট এবং বড় বরফ আগ্নেয়গিরির চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে, প্লুটোর মধ্যভাগে অবস্থিত কিছু বরফচূড়া আকৃতির শৃঙ্গ এবং ফাটল আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা নির্দেশ করে। গবেষকরা মনে করছেন, এই আগ্নেয়গিরি প্লুটোর ভূত্বকের নীচে থাকা জিওথার্মাল শক্তি দ্বারা এখনও সক্রিয় থাকতে পারে।

এছাড়া, আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের ফলে গঠিত বরফের ঢেউ, ক্র্যাক এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত পৃষ্ঠের উপাদান প্লুটোর ভূগঠনকে ধারাবাহিকভাবে পরিবর্তন করছে। এই তথ্য নতুন ধারণা দেয় যে, যদিও প্লুটো একটি ছোট এবং দূরবর্তী গ্রহ, এটি তীব্র ভূ-ক্রিয়াশীল কার্যকলাপে সম্পূর্ণরূপে স্থির নয়।

প্লুটোর বৈশিষ্ট্য
প্লুটো ছোট হলেও বৈচিত্র্যময় ভূগঠন রয়েছে। তার পৃষ্ঠে রয়েছে বিশাল বরফক্ষেত্র, পাহাড়, শৃঙ্গ, এবং গর্ত। নিউ হরাইজনস মিশনের ছবি অনুসারে, প্লুটোর শীর্ষ চূড়া ‘Tenzing Montes’ প্রায় ৩,৫০০ মিটার উচ্চ এবং বরফচূড়া নিয়ে গঠিত। বরফ আগ্নেয়গিরি এই শৃঙ্গ ও সমতল অঞ্চলে ক্রিয়াশীলতার প্রমাণ দেয়।

এছাড়া, প্লুটোর বায়ুমণ্ডলও তেমনটা শীতল হলেও মিথেন ও নাইট্রোজেনের মিশ্রণে সঞ্চালিত হয়। ক্রায়োভলকানিজমের মাধ্যমে এই বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এই আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ থেকে গ্যাস নির্গত হয়, যা ক্ষুদ্র বায়ুমণ্ডলে নতুন গ্যাসের প্রলেপ তৈরি করে।

গবেষণার গুরুত্ব
প্লুটোর বরফ আগ্নেয়গিরি আবিষ্কার মহাকাশ বিজ্ঞানীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে, সৌরজগতের দূরবর্তী গ্রহ ও উপগ্রহেও ভূ-ক্রিয়াশীলতা সম্পূর্ণ থেমে যায়নি। এছাড়া, এই ধরনের ক্রিয়াশীলতা আমাদেরকে বরফযুক্ত গ্রহে জলীয় বা জীবনের জন্য সম্ভাব্য পরিবেশ নিয়ে নতুন ধারণা দেয়।

উপসংহার
প্লুটোকে দীর্ঘদিন ধরে মৃত এবং স্থির গ্রহ হিসেবে ভাবা হয়েছিল। কিন্তু বরফের আগ্নেয়গিরির সন্ধান দেখিয়েছে যে, এই ক্ষুদ্র গ্রহও জীবন্ত এবং পরিবর্তনশীল। ক্রায়োভলকানিজম এবং ভূ-তাপের প্রভাবে প্লুটোর পৃষ্ঠ অবিরাম পরিবর্তিত হচ্ছে, যা সৌরজগতে ক্ষুদ্র গ্রহ ও বরফযুক্ত উপগ্রহের সম্ভাব্য ভূ-ক্রিয়াশীলতার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। নিউ হরাইজনস মিশনের এই তথ্য আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় যে, মহাবিশ্বের প্রতিটি কোণেই রহস্য লুকিয়ে আছে, এবং প্রতিটি গ্রহের পেছনে আছে বিস্ময়কর বৈজ্ঞানিক গল্প।

প্লুটোর বরফ আগ্নেয়গিরি সৌরজগতের বিস্ময় প্লুটোর বরফ আগ্নেয়গিরি সৌরজগতের বিস্ময় প্লুটোর বরফ আগ্নেয়গিরি সৌরজগতের বিস্ময় প্লুটোর বরফ আগ্নেয়গিরি সৌরজগতের বিস্ময় প্লুটোর বরফ আগ্নেয়গিরি সৌরজগতের বিস্ময়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *