লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষা করুন SGPT
SGPT (Serum Glutamate Pyruvate Transaminase) এবং SGOT বা AST (Serum Glutamic Oxaloacetic Transaminase) হলো দুটি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম, যা মূলত লিভারের কার্যকারিতা পরিমাপ করতে ব্যবহার করা হয়। এই এনজাইমগুলো রক্তের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয় এবং লিভারের সমস্যা থাকলে তা শনাক্ত করা যায়।
🔹 SGPT এবং SGOT কী?
- SGPT (ALT): এটি লিভারের কোষ থেকে নির্গত হয় এবং লিভারের প্রদাহ, ইনফেকশন বা ক্ষয় শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
- SGOT (AST): এটি লিভারের পাশাপাশি হার্ট, পেশী, কিডনি ও মস্তিষ্ক থেকে নির্গত হয়। তাই SGOT শুধুমাত্র লিভারের সমস্যা নয়, অন্যান্য অঙ্গের সমস্যাও নির্দেশ করতে পারে।
📊 AST (SGOT) ও ALT (SGPT)-এর স্বাভাবিক মান
| এনজাইম | স্বাভাবিক পরিসীমা (প্রতি লিটার) |
|---|---|
| AST (SGOT) | 5 – 40 ইউনিট |
| ALT (SGPT) | 7 – 56 ইউনিট |
পুরুষদের জন্য SGPT/ALT স্বাভাবিক মান সাধারণত 29–33 ইউনিট প্রতি লিটার,
মহিলাদের জন্য 19–25 ইউনিট প্রতি লিটার।
৫৫ ইউনিট পর্যন্ত SGPT সাধারণত নিরাপদ সীমার মধ্যে বিবেচিত হয়।
⚠️ SGPT বেশি হলে কি হবে?
যদি রিপোর্টে SGPT-এর মাত্রা বেড়ে যায়, তা লিভারের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
SGPT বাড়ার সাধারণ কারণগুলো হলো—
- হেপাটাইটিস (A, B, C)
- লিভারের সিরোসিস বা ক্ষয়
- লিভারের প্রদাহ বা ইনফেকশন
- ফ্যাটি লিভার (মেদযুক্ত লিভার)
SGPT বেড়ে গেলে ডাক্তারের সঙ্গে অবিলম্বে পরামর্শ করা জরুরি, কারণ প্রয়োজন হলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা শুরু করতে হবে।
🧪 SGPT পরীক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
SGPT পরীক্ষা বা Serum Glutamic Pyruvic Transaminase রক্ত পরীক্ষা মূলত লিভারের অবস্থা নিরীক্ষণের জন্য করা হয়। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে লিভারের সমস্যা শনাক্ত করতে সাহায্য করে। অনেক সময় রোগী কোনো লক্ষণ না দেখালেও SGPT বেড়ে থাকতে পারে। তাই নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি।
🍽️ SGPT বাড়ার কারণ
কিছু খাবার ও খাদ্যাভ্যাস SGPT বৃদ্ধি করতে পারে। প্রধান কারণগুলো হলো—
1️⃣ লাল মাংস
- গরু, খাসি বা মাটনের মাংস অতিরিক্ত খেলে লিভারের উপর চাপ পড়ে।
2️⃣ ভাজা ও তেলযুক্ত খাবার
- পাম তেল বা নারকেল তেল দিয়ে তৈরি ভাজা ও বেকড আইটেম।
- ফাস্ট ফুড, চিপস, প্যাকেজড স্ন্যাক্স
3️⃣ চিনিযুক্ত খাবার
- মিষ্টি, ক্যান্ডি, কেক, পেস্ট্রি, সোডা।
- উচ্চ-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপযুক্ত খাবার লিভারের উপর চাপ ফেলে।
4️⃣ এলকোহল
- অতিরিক্ত মদ্যপান লিভারের কোষ ধ্বংস করে SGPT বৃদ্ধি করে।
5️⃣ কিছু ওষুধ
- পেইন কিলার, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রক এবং স্টেরয়েড।
🥗 SGPT কমানোর জন্য খাদ্য ও জীবনধারা
SGPT নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ—
1️⃣ স্বাস্থ্যকর খাদ্য
- সবজি ও ফলমূল: পালং শাক, ব্রকলি, বিটরুট, গাজর
- প্রোটিন: মাছ, ডিম, লিন মাংস
- শস্যজাত খাবার: ওটস, ব্রাউন রাইস
2️⃣ পর্যাপ্ত পানি পান
- দিনে ৮–১০ গ্লাস পানি লিভারের ডিটক্সে সাহায্য করে।
3️⃣ নিয়মিত ব্যায়াম
- দৈনিক ৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম
- ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা SGPT নিয়ন্ত্রণে রাখে।
4️⃣ মদ্যপান ও ধূমপান এড়ানো
- এলকোহল ও ধূমপান লিভারের ক্ষতি বাড়ায়।
5️⃣ নিয়মিত পরীক্ষা
- SGPT/SGOT পরীক্ষা করানো
- পরিবারে লিভারের সমস্যা থাকলে বিশেষ সতর্কতা নেওয়া
💡 অতিরিক্ত টিপস
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন (যেমন ব্লুবেরি, গ্রিন টি)
- প্রসেসড খাবার ও সোডা কমান
- স্ট্রেস কমানোর জন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম ও ধ্যান করুন
📝 উপসংহার
SGPT এবং SGOT হলো লিভারের স্বাস্থ্য নিরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম।
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনধারা লিভারকে সুস্থ রাখে।
- SGPT বেড়ে গেলে ডাক্তারের সঙ্গে অবিলম্বে পরামর্শ করা অত্যন্ত জরুরি।
- লাল মাংস, ভাজা ও চিনিযুক্ত খাবার কমিয়ে, পর্যাপ্ত পানি ও ব্যায়াম করলে লিভারের স্বাস্থ্য ভালো থাকে।
সচেতনতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারার মাধ্যমে আপনি আপনার লিভার সুস্থ রাখতে পারবেন এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যা এড়াতে পারবেন।
লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষা করুন SGPT লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষা করুন SGPT লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষা করুন SGPT লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষা করুন SGPT লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষা করুন SGPT
Via Test (Visual inspection with acetic acid) কি?
TSH (Thyroid stimulating hormone) টেষ্ট কি?
