লকডাউনের ২২ দফা নিয়ে যা জানতে হবেলকডাউনের ২২ দফা নিয়ে যা জানতে হবে

লকডাউনের ২২ দফা নিয়ে যা জানতে হবে

১. ঈদের পর ২৩ জুলাই থেকে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসসমূহ বন্ধ থাকবে।

২. সড়ক, রেল ও নৌ-পথে গণপরিবহণ (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) ও সব যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

০৩. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিসেবা, যেমন-কৃষি পণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহণ/বিক্রয়, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোডিড-১৯ টিকা প্রদান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান কার্যক্রম, রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যাবলি, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভাক সেবা, ব্যাংক, ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম, সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা (পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়কের বাতি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কার্যক্রম), সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যালসসহ অন্যান্য জরুরি/অত্যাবশাকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহের কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়াত করতে পারবে।

০৪. বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় খোলা রাখার বিষয়ে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

 ০৫. জরুরি পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক/লরি/কাভার্ডভ্যান/নৌযান/পণ্যবাহী রেল/ফেরি এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

০৬. বন্দরসমুহ (বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল) এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

০৭. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন/বাজার কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

০৮. অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

০৯. শপিংমল/মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

 ১০. সব পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

 ১১.  সব শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে।

১২. জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠান (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান, ওয়ালিমা), জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি বন্ধ থাকবে।

১৩. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতসমূহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

 ১৪.  ব্যাংকিং/বীমা/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক/আর্থিকপ্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

 ১৫. সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন এবং দাপ্তরিক কাজসমূহ ভার্চুয়ালি (ই-নথি, ই-টেন্ডারিং, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যম) সম্পন্ন করবেন।

 ১৬. টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।

 ১৭. খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রয় (অনলাইন টেকঅ্যাওয়ে) করতে পারবে।

১৮. আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে এবং বিদেশগামী যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকেট/প্রমাণ প্রদর্শন করে গাড়ি ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদে নামাজের বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে।

১৯.  ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠ পর্যায়ে কার্যকর টহল নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা মোতায়েন করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় সেনা কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

২০. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করে সেনাবাহিনী, বিজিবি/কোস্টগার্ড, পুলিশ, র্যাব ও আনসার নিয়োগ ও টহলের অধিক্ষেত্র, পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণ করবেন। সে সঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিশেষ কোনো কার্যক্রমের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নিবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগসমূহ এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

 ২১. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

২২. সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮-এর আওতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন।

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি: বর্তমান চিত্র ও সতর্কতা বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস (COVID-19) প্রথম শনাক্ত হয় ২০২০ সালের মার্চ মাসে। এর পর থেকে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং দৈনন্দিন জীবন ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। প্রথম দফায় সরকার দ্রুত লকডাউন, সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক ব্যবহার এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের মতো পদক্ষেপ নিয়েছিল সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং আইইডিসিআর নিয়মিত করোনা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে জনগণকে সচেতন রাখছে। বর্তমানে, দেশে টিকা কার্যক্রম চলছে। দেশের মানুষ টিকার মাধ্যমে নিজেকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করছে এবং মৃত্যুহার কমাতে সহায়তা করছে। সরকার বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভ্যাকসিন বুথ পরিচালনা করছে এবং জনগণকে ভ্যাকসিন গ্রহণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করছে। তবে, করোনার সংক্রমণ এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে শীতকাল বা আবহাওয়ার পরিবর্তনের সময়, সর্দি, কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে আইসোলেশন অপরিহার্য। এছাড়া, জনসমাগম এড়ানো, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং মাস্ক ব্যবহার করাও জরুরি। করোনা মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। টিকা গ্রহণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মাধ্যমে সংক্রমণ কমানো সম্ভব। সচেতনতা ও ভ্যাকসিন গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হচ্ছে।     উপসংহারে, করোনা মোকাবেলায় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য। সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা এবং নিজেকে সতর্ক রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব। শুধুমাত্র সঠিক তথ্য এবং সতর্কতার মাধ্যমে আমরা জীবন স্বাভাবিক করতে পারব। সময়ের সংলাপের ফেইসবুক পেইজ
গুম প্রতিরোধে নতুন অধ্যাদেশ জারি
বাংলাদেশে পেপ্যাল আসার সম্ভাবনা
সন্ধানী লাইফ ইন্সুরেন্স চাকরি বিজ্ঞপ্তি

লকডাউনের ২২ দফা নিয়ে যা জানতে হবে লকডাউনের ২২ দফা নিয়ে যা জানতে হবে লকডাউনের ২২ দফা নিয়ে যা জানতে হবে লকডাউনের ২২ দফা নিয়ে যা জানতে হবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *