যেভাবে প্রাচীন চীনে ভূমিকম্প আগে ধরা হতো
আজ আমরা ভূমিকম্প পূর্বাভাসের জন্য সিসমোগ্রাফ, জিপিএস প্রযুক্তি, আধুনিক সেন্সর এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার করি। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হলো—ভূমিকম্প শনাক্ত করার ধারণা আধুনিক বিজ্ঞানের আবিষ্কার নয়। প্রায় দুই হাজার বছর আগে, খ্রিস্টাব্দ ১৩২ সালে, চীনের বিখ্যাত বিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিদ ও উদ্ভাবক ঝাং হেং তৈরি করেছিলেন পৃথিবীর প্রথম ভূমিকম্প-পর্যবেক্ষণ যন্ত্র, যার নাম সিসমোস্কোপ।
তৎকালীন সময়ে ভূমিকম্প সম্পর্কে মানুষের ধারণা ছিল খুবই সীমিত। কোথাও বড় ভূমিকম্প হলে কেন্দ্র থেকে দূরের অঞ্চলগুলো সেই তথ্য পেত অনেক দেরিতে। সময়মতো খবর না পাওয়ায় সেনাবাহিনী, প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষ যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারত না। এই সমস্যাকে সামনে রেখে ঝাং হেং এমন একটি যন্ত্র উদ্ভাবন করলেন, যা শুধু ভূমিকম্প শনাক্তই করত না, বরং ভূমিকম্প কোন দিক থেকে এসেছে—তাও নির্দেশ করতে পারত। সেই যুগের জন্য এটি ছিল এক অসাধারণ প্রযুক্তিগত বিপ্লব।
সিসমোস্কোপের গঠন ও কাজ করার পদ্ধতি
ঝাং হেং-এর সিসমোস্কোপটি দেখতে ছিল একটি বিশাল ব্রোঞ্জের পাত্রের মতো। পাত্রটির চারপাশে আটটি দিক নির্দেশকারী ড্রাগনের মাথা লাগানো ছিল, আর প্রতিটি ড্রাগনের নিচে অবস্থান করত একটি ব্যাঙের মুখ। পাত্রের ভেতরে ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম এক যান্ত্রিক ব্যবস্থা, যা সামান্য কম্পনও অনুভব করতে সক্ষম ছিল।
যখন পৃথিবীর গভীরে কোথাও ভূমিকম্প হত, এই মেকানিজম তা শনাক্ত করে কম্পনের দিক অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ড্রাগন-মাথার মুখ খুলে দিত। ড্রাগনের মুখে থাকা ধাতব বলটি তখন নিচে থাকা ব্যাঙের মুখে পড়ে যেত। যে দিকের ব্যাঙ বলটি গ্রহণ করত, তা নির্দেশ করত—ভূমিকম্পের উৎস কোন দিক থেকে এসেছে।
অবিশ্বাস্য নির্ভুলতা
ঐতিহাসিক রেকর্ডে পাওয়া যায় যে, এই যন্ত্রটি কয়েকশ মাইল দূরের ভূমিকম্পও শনাক্ত করতে পারত। একবার রাজধানীতে কোনো কম্পন অনুভূত না হলেও সিসমোস্কোপ সংকেত দিয়েছিল। পরে তদন্তে জানা যায়—দূরবর্তী অঞ্চলে সত্যিই ভূমিকম্প হয়েছিল। সেই সময়ের জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিবেচনায় এটি ছিল প্রায় অলৌকিক।
আধুনিক সিসমোগ্রাফের প্রাচীন রূপ
আজ আমরা যে সিসমোগ্রাফ ব্যবহার করি, তা আসলে ঝাং হেং-এর সিসমোস্কোপেরই উন্নত, আধুনিক রূপ। যদিও বর্তমান যন্ত্রগুলো ডিজিটাল প্রযুক্তি, ডেটা রেকর্ডিং, জিপিএস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে, তবুও ভূমিকম্প শনাক্তকরণের মূল ধারণার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন ঝাং হেং নিজেই।
সিসমোস্কোপ শুধু একটি যান্ত্রিক উদ্ভাবন নয়; এটি মানব মেধা, সৃজনশীলতা এবং বৈজ্ঞানিক কৌতূহলের এক চমৎকার উদাহরণ। প্রায় দুই হাজার বছর আগে এমন প্রযুক্তি তৈরি করে ঝাং হেং প্রমাণ করেছিলেন—মানবসভ্যতা বহু আগেই বিজ্ঞানকে কল্পনার সীমা ছাড়িয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিল।
প্রা যেভাবে প্রাচীন চীনে ভূমিকম্প আগে ধরা হতো যেভাবে প্রাচীন চীনে ভূমিকম্প আগে ধরা হতো যেভাবে প্রাচীন চীনে ভূমিকম্প আগে ধরা হতো যেভাবে প্রাচীন চীনে ভূমিকম্প আগে ধরা হতো
পাশ হলো পুলিশ কমিশন গঠন অধ্যাদেশ
আরোকিছু আসনে বিএনপি প্রার্থীর নাম ঘোষনা
প্রতিবেদন দিল তদন্ত কমিশন
