গরুর চামড়া কেন শরীরের জন্য হিরোগরুর চামড়া কেন শরীরের জন্য হিরো

গরুর চামড়া কেন শরীরের জন্য হিরো

গরুর চামড়া আমাদের উপমহাদেশে বহুদিন ধরে একটি জনপ্রিয় খাদ্য উপাদান হিসেবে পরিচিত। অনেকেই একে কেবল উৎসব বা বিশেষ খাবারের অংশ ভাবেন, কিন্তু গরুর চামড়ায় থাকা পুষ্টিগুণ সত্যিই বিস্ময়কর। প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর চামড়ায় থাকে প্রায় ২২৫ কিলোক্যালরি শক্তি, যা সহজেই শরীরকে প্রয়োজনীয় এনার্জি দিতে সক্ষম। এর মধ্যে রয়েছে ৪৭ গ্রাম প্রোটিন, যা সাধারণ প্রোটিনের তুলনায় কিছুটা আলাদা ধরণের—এটি মূলত ‘জিলাটিন’ নামে পরিচিত এক বিশেষ প্রোটিন। জিলাটিন মানুষের দেহে হাড়, ত্বক, লিগামেন্ট ও জয়েন্টের গঠন এবং মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া ৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১ গ্রাম চর্বি, ০.০২ গ্রাম ফাইবার এবং প্রায় ৪৫ গ্রাম পানি থাকার কারণে এটি অনেকের জন্য পুষ্টিকর হলেও তুলনামূলকভাবে লো-ফ্যাট খাবার হিসেবেও বিবেচিত।

জিলাটিন সমৃদ্ধ খাবার শরীরের নমনীয়তা বাড়ায়, ত্বকের কোলাজেন গঠনকে সহায়তা করে এবং বার্ধক্যজনিত পরিবর্তন বিলম্বিত করতেও ভূমিকা রাখে। গরুর চামড়া থেকে তৈরি খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে হাড় মজবুত হওয়া, ত্বকে স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পাওয়া এবং হজমতন্ত্রকে সক্রিয় রাখার মতো উপকারিতা পাওয়া যায়। অনেক দেশে জিলাটিন পরিপূরক (সাপ্লিমেন্ট) হিসেবে আলাদা করে খাওয়া হয়, অথচ আমাদের অঞ্চলে তা খাবারের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব।

তবে গরুর চামড়া খাওয়ার আগে সঠিকভাবে পরিষ্কার করা খুবই জরুরি। পরিষ্কার করার ধাপগুলো অনুসরণ করলে এটি হয়ে ওঠে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর, নিরাপদ এবং সুস্বাদু খাবার। প্রথমে চামড়া ১ বর্গফুট আকারে কেটে নিতে হয়, যাতে পরিস্কার করার কাজ সহজ হয়। এরপর খাওয়ার সোডা দিয়ে ব্রাশের সাহায্যে যে অংশে লোম রয়েছে সেই দিকটি ভালোভাবে ঘষে পরিস্কার করতে হয়। এটি করলে লোমের গোড়া নরম হয় এবং পরবর্তী ধাপে সহজে উঠে আসে। এরপর ১৫ মিনিট লবণ পানি দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হয়। এই ধাপটি চামড়ার দুর্গন্ধ দূর করে এবং জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। তারপর পরিষ্কার পানিতে চামড়াটি ধুয়ে আবার স্বচ্ছ পানিতে ১৫-২০ মিনিট ফুটিয়ে নামিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা রেখে দিতে হয়। এই সময়টুকু চামড়াকে নরম করতে সাহায্য করে, ফলে পরে পরিষ্কার করা আরও সহজ হয়ে যায়।

যখন চামড়া নরম হয়ে আসে, তখন ভোতা ছুরি দিয়ে চামড়ার উপরের অংশ আলতোভাবে ঘষলেই লোমসহ উপরের লেয়ারটি উঠে আসবে। এতে চামড়া হয়ে যাবে একদম পরিষ্কার, সাদা ও রান্নার উপযোগী। পরে ভালোভাবে ধুয়ে ফ্রিজে রেখে দিলে যেকোনো সময় ছোট ছোট টুকরা করে গরুর মাংসের মতোই ঝোল, ভুনা বা ফ্রাই করে খাওয়া যায়। বিশেষ করে ঈদের পরবর্তী সময়ে বা শীতকালে গরুর চামড়ার ঝাল ভুনা ও ফ্রাই অনেক পরিবারের বিশেষ প্রিয় খাবার।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গরুর চামড়া খাওয়ার প্রচলন রয়েছে এবং তা মোটেও নতুন নয়। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং নাইজেরিয়ায় এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার। ইন্দোনেশিয়ায় “ক্রুপুক রম্বুট” এবং নাইজেরিয়ায় “পোনমো” নামে গরুর চামড়ার বিশেষ খাবার তৈরি করা হয়। এসব দেশে গরুর চামড়া শুধু সস্তা প্রোটিনের উৎস হিসেবেই নয়, বরং একটি ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত। মালয়েশিয়াতেও এটি রান্না করা হয় বিভিন্ন মসলা ও সবজির সঙ্গে, যা স্থানীয়দের কাছে পছন্দের delicacy।

ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও গরুর চামড়া খাওয়া সম্পূর্ণ হালাল, কারণ এটি গরুর বৈধ অংশ। বহু দেশে ধর্মীয় আচার, উৎসব এবং দৈনন্দিন রান্নায় গরুর চামড়া বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। আমাদের দেশেও গ্রামাঞ্চলে এটি বহু পুরোনো ঐতিহ্যের অংশ এবং এখনও অনেক পরিবারে জনপ্রিয় খাবার।

সবশেষে বলা যায়, গরুর চামড়া শুধু একটি খাবার নয়—এটি পুষ্টির সমৃদ্ধ উৎস। সঠিকভাবে পরিষ্কার করে রান্না করলে এটি নিরাপদ, প্রোটিনসমৃদ্ধ এবং বহু স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রদানকারী খাবার। স্থানীয় ঐতিহ্য বজায় রেখে এবং বৈজ্ঞানিকভাবে এর পুষ্টিগুণ জানা থাকলে গরুর চামড়া হতে পারে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার একটি স্বাস্থ্যকর উপাদান।

গরুর চামড়া কেন শরীরের জন্য হিরো গরুর চামড়া কেন শরীরের জন্য হিরো গরুর চামড়া কেন শরীরের জন্য হিরো গরুর চামড়া কেন শরীরের জন্য হিরো গরুর চামড়া কেন শরীরের জন্য হিরো

প্রতিবেদন দিল তদন্ত কমিশন

সময়ের সংলাপের ফেইসবুক পেইজ

অপারেশন ম্যানেজার খুঁজছে NRBC Bank

যেভাবে প্রাচীন চীনে ভূমিকম্প আগে ধরা হতো

কাজী এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডে চাকরি

ESKAYEF Pharmaceuticals জনবল নিয়োগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *