মুখে ঘা হওয়ার কারণ

Spread the love

মুখে ঘা হওয়ার কারণ

 আমাদের মুখে অনেক সময় লাল ছোট ছোট গর্ত মত দেখা  যায়। এতে করে খুব ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হয় ওই স্থানে আস্তে আস্তে ব্যাথা বেড়ে তীব্র হয় অংশটি সাদা রং ধারণ করে পরে চার থেকে পাঁচ দিন মধ্যেই সেরে যায় যদিও আমাদের মনে হতে পারে এটা তেমন কিছু না অল্প কিছু দিনেই যেহেতু সেরে যায় সুতরাং এটা নিয়ে মাথা ঘামানোর কিছুই নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে প্রায় ২০০ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে এই মুখে ঘা হয়ে থাকে। 

 মুখের ঘা এর বিভিন্ন ধরনের হয় যেমন – মাইনর   এপথাস  আলসার,  মেজর এপথাস আলসার ও  হারপেটিফরম এপথাস আলসার।

মাইনর   এপথাস আলসাল

দশ জনের মধ্যে আট জনেরই এই আলসার দেখা যায়।  এ ধরনের আলসার আকারে ছোট, গোল, দেখতে হলুদ এবং চারপাশ লাল হয় । এটি সাতদিনের মধ্যে চলে যায় । এটা একটা থেকে পাঁচটা মুখের ভেতর হতে পারে।  তুলনামূলকভাবে অন্য মুখের আলসারের থেকে ব্যথা কম।

আরও পড়ুনঃ প্রশাবে ইনফেকশন হলে করনিও কি?

মেজর এপথাস আলসার

এই আলসার খুবই ব্যথা যুক্ত হয়ে থাকে। এই আলসার দশ জনের মধ্যে এক জনের হয়ে থাকে।এই আলসারটি আকারে অনেক বড় থাকে।  এটি সপ্তাহ থেকে একমাস থাকতে পারে।  ব্যথার জন্য শরীরের জ্বর এসে যায়,  কিছু খাওয়ায় কষ্ট হয়।  সাধারণত এই আলসার তাদের হয় যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। ডায়াবেটিস আছে তাদের ক্ষেত্রেও এটা দেখা যায়।

মুখে ঘা ছবি
মুখে ঘা ছবি

হারপেটিফরম এপথাস আলসার

হারপেটিফরম এপথাস আলসার আকারে ছোট হয়ে থাকে।  কিন্তু একসাথে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেকগুলো হয়।  এক মাস থেকে দুই মাস পর্যন্ত এটি থাকতে পারে।  এই আলসার প্রতি দশ জনের মধ্যে একজনের হয়।   

মুখের ঘা হওয়ার কারণ কী তা জানা গেলে এটি প্রতিরোধ করা  যেত । আসুন জেনে নেই এই মুখে আলসার হওয়ার কারণ গুলো কি-

  • ভিটামিন ও আয়রনের স্বল্পতার কারণে যেমন ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি এর অভাবে সমস্যা হতে পারে। 
  • কারো যদি খাবার খাওয়ার সময় গালের ভিতরের অংশ বা জিহ্বার মাঝে কামড় লেগে ক্ষত তৈরি হয় তবে সেখানে একা হতে পারে তবে এটা অল্প দিনের ভিতরে সেরে যায়।
  • হরমোনের কারণে ও এটি হতে পারে।  অনেক সময় মেয়েদের পিরিয়ডের আগে এবং পরে এই আলসার হয়। মেনোপজ এরপরেও এই আলসার হতে পারে।
  • শক্ত ব্রাশ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে মুখে ঘা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কারণ এই ব্রাশ করার সময় মুখের বিভিন্ন অংশ ছিড়ে যেতে পারে বা ক্ষত তৈরি হতে পারে এমনকি অনেকের কিছু পেষ্ট ব্যবহারের ফলে এলার্জি হয়ে থাকে যার কারণেও মুখে ঘা হতে পারে সুতরাং এটি লক্ষ রাখতে হবে।
  • অতিরিক্ত গরম পানি মুখে নিলেও মুখে ঘা হতে পারে।
  •  মুখের মাড়ি আঘাতগ্রস্থ হয় অনেক সময় এই ঘা হয়।  জোরে জোরে দাঁত ব্রাশ করলে এটি হয়। দাঁতে যাদের ক্ষয় রোগ আছে তাদের ক্ষেত্রেও মুখে ঘা হতে পারে। 
 দীর্ঘদিন মুখে ঘা
দীর্ঘদিন মুখে ঘা
  • ধূমপান, নেশা জাতীয় জিনিস, পান, মদ খেলেও মুখে ঘা হয়।
  • যাদের এই ডায়াবেটিস ক্যান্সার এমন রোগ আছে তাদেরও এ আলসার  হয়ে থাকে ।
  • রাতে ঘুম না হলে অথবা দেরি করে ঘুমালে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হলে অনেক বেশি দুশ্চিন্তা করলেও মুখে ঘা হতে পারে।
  • বিভিন্ন ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কারণেও মুখে ঘা হতে পারে। উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ফলে ও মুখে ঘা হতে পারে। 
  •  বংশগত কারণেও মুখের ভিতর আলসার হয় বা ঘা হয়।
  • কৃত্রিম চিনি যদি কারো বিশেষ মাত্রায় খাওয়া হয় যেমন জুস, চকলেট, সফট ড্রিংকস ইত্যাদি খাওয়ার ফলে ও মুখে ঘা হতে পারে। 
  •   মুখে এলার্জি থাকলে  তাও ঘা এর কারণ হতে পারে।
  • রক্তস্বল্পতার কারণেও এই মুখে আলসার হতে পারে। 
  •  ঠান্ডা লাগালে মুখের ঘা হতে পারে।
  • এছাড়াও যদি কারো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় তাহলে এই ঘা হতে পারে যেমন ক্যান্সারের কারণে যারা কেমতেরাপি দেয় অথবা কারো যদি  এইডস   রোগ থাকে তাদের এ সমস্যা হতে পারে।
 মুখের তালুতে ঘা
মুখের তালুতে ঘা

 কিভাবে মুখের ঘা থেকে প্রতিকার পাওয়া যায়ঃ-

  • রাস্তাঘাট কিংবা বাইরের পানিও না খাওয়া।
  •  রাতে কমপক্ষে ৮ ঘন্টা ঘুমানো
  •  ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট নেওয়া
  •  নরম টুথ ব্রাশ ব্যবহার করুন যেটা চাপ বা ঘষা লাগে না । প্রতিদিন দুইবার দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস করতে হবে। 
  • সাধারণত সাত দিনের মধ্যে এই ঘা ভালো হয়ে যায়।  যদি না হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ মাফিক কিছু পেস্ট বা জেল ব্যবহার করুন।  মাউথ ওয়াশ মুখের ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • পুষ্টিকর শাকসবজি ফল ইত্যাদি খেতে হবে। 
 মুখের ভিতরে সাদা গোটা
মুখের ভিতরে সাদা গোটা
  •  ঘরে বসে গরম পানিতে লবণ অথবা বেকিং সোডা দিয়ে কুলি করলে আরাম  পাওয়া যাবে।  তাছাড়া ১ চিমটি বেকিং সোডা আর একটু পানি দিয়ে মিশিয়ে  ঘা  এর উপর লাগিয়ে রাখতে পারেন। গায়ের উপর পিএস দিলে খুব তাড়াতাড়ি উপকার পাওয়া যায়।  কিন্তু অনেক ব্যথা বাড়ে। ভিটামিন ই ক্যাপসুল গায়ের  উপর ভেঙে দিলে  অথবা টি-ব্যাগ গায়ের উপর রেখে দিলে দ্রুত নিরাময় হওয়া সম্ভব।
  •   মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া ঘা  এর উপর দিলে অনেক ভালো হয়।  এটি মুখের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা অন্ততপক্ষে দিনে ১০ গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করতে হবে।
  •  মুখের ঘা এড়াতে প্রতিদিন টক দই খেতে পারেন।
  •  মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।
  •  ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করবেন না। 
মুখে ঘা হওয়ার কারণ
মুখে ঘা হওয়ার কারণ

মুখে ঘা হওয়ার কারণ মুখে ঘা হওয়ার কারণ মুখে ঘা হওয়ার কারণ মুখে ঘা হওয়ার কারণ মুখে ঘা হওয়ার কারণ মুখে ঘা হওয়ার কারণ মুখে ঘা হওয়ার কারণ

3 thoughts on “মুখে ঘা হওয়ার কারণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *