রসুনের যত গুনাগুন।

Spread the love

রসুনের যত গুনাগুন।

রসুন

 রসুনের বিস্ময়কর ব্যবহার

রসুন আমাদের যে স্বাস্থ্য উপকারী বস্তু তা আমরা কমবেশি সবাই জানি। আমাদের প্রতিনিয়তো খাদ্যতালিকায় রসুন অবশ্যই থাকে কেননা আমরা প্রায় সকল ধরনের রান্নায় রসুন ব্যবহার করে আসছি। রসুনে রয়েছে অনেক গুনাগুন , অনেকেই সকালে খালিপেটে অথবা রাতে ঘুমানোর আগে রসুন খেয়ে থাকেন । রসুন ঘরোয়া ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে আদিকাল থেকে। রসুনের গুনাগুন এর ফলে বলা হয়ে থাকে রসুন হলো গরিবের পেনিসিলিন। কাঁচারসুন ব্রণ বা গলাব্যথা সারাতে খুব কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে এছাড়াও চুলপড়া কমায়,গলাব্যথা সারায় ইত্যাদি।

 রসুনের উপকারী ‍দিকগুলো

নতুন চুল গজায়

মাথায় নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে রসুন । প্রতিদিন রাতে মাথায়  রসুন বেটে প্রলেপ দিয়ে রাখুন এবং সকালে উঠে ধুয়ে ফেলুন দেখাযাবে কিছুদিনের মধ্যেই নতুন চুল গজানো শুরু করছে।

ক্ষত সাড়াতে

আমাদের অনেকেরেই রাতে জ্বর হয়ে থাকে এবং  এ জ্বর নিয়মিত হতে থাকলে ঠোঁটের কোণে জ্বরঠোসা পড়ে থাকে যা খুবই কষ্ট দিয়ে থাকে। এই জ্বরঠোসার ব্যথা থেকে মুক্তির জন্য কাঁচারসুনের রস আক্রান্ত স্থানে লাগালে ব্যথা কমে যায় এবং তারাতাড়ি ক্ষত সেড়ে ওঠে। এছাড়াও রসুন কাটা/ক্ষত সারিয়ে তুলতে খুবই ভালো কার্যকর ভূমিকা পালন করে থাকে।  কেটে যাওয়া ক্ষত স্থানে রসুন বেটে পেস্ট করে লাগিয়ে দিয়ে বেঁধে দিতে হবে অল্প কিছু দিনের মধ্যে সেরে যাবে কাটা স্থান।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে রসুন

রসুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে যার কারণে রসুনকে গরিবের পেনিসিলিও বলা হয়ে থাকে। প্রতিদিন সকালে এক টুকরো রসুন খেলে শরিরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমাত বৃদ্ধি হয় এবং বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রসুনে রয়েছে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট নামক উপাদান যা এন্টি অক্সিডেন্ট উৎপন্ন করতে সাহায্য করে এবং শরীরের বিষাক্ত বস্তু ধংস করে থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

গলাব্যথা সাড়াতে রসুন

রসুন গলাব্যথা সাড়াতে খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে কেননা রসুনে রয়েছে  এন্টি অক্সিডেন্ট, এন্টি ইনফ্লেমেটরি ও এন্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান যা গলাব্যথা সাড়িয়ে থাকে। দ্রুত গলাব্যথা নিরাময় করতে একটুকরো কাঁচারসুন চুষে খেয়ে নিন। গন্ধ ভালো না লাগলে এটি খাবার পরে আপনার রুচি সম্মত কিছূ খেয়ে নিতে পারেন। কাঁচারসুনের রস আস্তে আস্তে খেলে গলা ব্যথা ভালো হয়।

যৌন সমস্য সমাধান

রসুন যৌন সমস্য সমাধানে বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। যাদের যৌন সমস্য রয়েছে তার প্রতিদিন কয়েক কোয়া রসুন খেতে পারেন সাথে একগ্লাস গরম ‍দুধ, দেখা যাবে অল্পদিনেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। গবেষনায় দেখা গেছে প্রতি মিলি লিটার শুক্রাণুতে ২০ মিলিয়নের কম স্পার্ম থাকলে যেকোনো পুরুষ অনুর্বর হতে পারেনে। এর প্রধানত কারন বাজে খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অ্যালকোহল, অনিয়ন্ত্রিত জীবন, ব্যায়ামে অনীহা , হস্তমৈথুন ইত্যাদি প্রভৃতি কারণে দিন দিন অনুর্বরতা বাড়ছে। এক্ষেত্রে বিশেষ সহায়ক রসুন।কেননা সুস্থ বীর্য তৈরিতে রসুনের জুড়ি মেলা ভার। যৌন অক্ষমতার ক্ষেত্রে রসুন খুব ভাল ফল দিয়ে থাকে এটি অ্যান্টিসেপ্টিক হিসেবে কাজ করে থাকে।

ত্বকের সমস্যা সমাধানে

ত্বকের সমস্যা যেমন ফোঁড়া বা ফাংগাল ইনফেকশন ইত্যাদি সাড়াতে রসুন খুবই ভালো সহায়ক। কেবল আক্রান্তস্থানে কাঁচারসুনের রস লাগালেই হবে। এছাড়াও দ্রুত ব্রণ সারাতে বা ব্রণের ব্যথা কমাতে আক্রান্ত স্থানে কাঁচা রসুন বা কাঁচা রসুনের রস লাগালে দ্রুত সেড়ে যবে। কেননা রসুনে থাকা এন্টিঅক্সিডেন্ট, এন্টিমাইক্রোবিয়াল ও এন্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান যা ত্বকের কোষে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ ও ব্যাকটিরিয়াগুলিকে টেনে বের করে আনে।

চুলকানি সাড়াতে রসুন

রসুন ছত্রাক জনিত সংক্ৰমণ দূর করতে সাহায্য করে। আর দাদ একটি ছত্রাকজনিত সংক্ৰমণ, তাই দাদের ওপর রসুন দারুন কার্যকরী। এক কোয়া রসুন ভালো করে থেতলে নিয়ে দাদের উপরে প্রলেপ দিয়ে রাখলে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়। এছাড়াও সাড়াদিন জুতো পরে থাকার কারনে অনেকের পায়ে র‌্যাশ বা চুলকানি হয়ে থাকে। এটা সারাতে গরম পানিতে রসুন ও সামন্য লবণ দিয়ে পা ভিজিয়ে রাখুন আধাঘন্টা । তারপর সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে নিন অল্প দিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

2 thoughts on “রসুনের যত গুনাগুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *