১৭ রমাজান ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের দিন

Spread the love

১৭ রমাজান ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের দিন

কুরআনের ভাষায়: এটি সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী দিন
এই ১৭ রমজান, ইয়াউমুল ফুরকান বা সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী দিন। ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের দিন। দ্বিতীয় হিজরীর এই দিনে সঙ্ঘটিত হয়েছিল ইসলামের প্রথম ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ। আল্লাহ সেদিন তাঁর রাসূল (সা) ও মুমিনদের বিজয়ী এবং কাফির ও মুশরিকদের পরাজিত করার মাধ্যমে হক ও বাতিলের প্রভেদ প্রতিভাত করে দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ দিবসটিকে ‘ইয়াওমুল ফুরকান’ তথা সত্য-মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণের দিন বলে আখ্যায়িত করেছেন।

বদর যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

নবুওয়াত লাভের পর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা মুকাররমায় থেকে ছিলেন তের বছর। সুদীর্ঘ এ সময়কালে মক্কার কাফেরগণ তাঁকে ও তাঁর নিবেদিতপ্রাণ সাহাবীদেরকে অসহনীয়, অবর্ণনীয় কষ্ট দিয়েছে। এমনকি হিজরতের সামান্য পূর্বে তাঁকে হত্যা করার পরিকল্পনাও করেছিল, যা এ সূরায় বর্ণিত হয়েছে। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিজরত করে মদীনায় চলে আসার পর মক্কার কাফেরগণ চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকল, যাতে মদীনায়ও তিনি স্বস্তিতে থাকতে না পারেন। তারা আবদুল্লাহ ইবনে উবাঈকে চিঠি লিখল, ‘তোমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তার সঙ্গীদেরকে আশ্রয় দিয়েছ। আমাদের সাফ কথা, তোমরা আশ্রয় প্রত্যাহার করে নাও। নয়ত আমরা তোমাদের উপরই আক্রমণ চালাব। (আবু দাউদ, অধ্যায়- আল-খারাজ, পরিচ্ছেদ ২৩ হাদীস নং ৩০০৪)

আনসার সম্প্রদায়ের আউস গোত্রীয় নেতা হযরত সাদ ইবনে মুয়াজ (রাযি.) একবার মক্কা মুকাররমায় গেলে ঠিক তাওয়াফের সময় আবু জাহল তাকে বলল, তোমরা আমাদের শত্রুদেরকে আশ্রয় দিয়েছ। এখন যদি তুমি আমাদের এক সর্দারের আশ্রয়ে না থাকতে, তবে তোমাকে জীবিত ফিরে যেতে দেওয়া হত না। বোঝাতে চাচ্ছিল যে, আগামীতে মদীনা মুনাওয়ারার কোন লোক মক্কা মুকাররমা আসলে তাকে হত্যা করা হবে। হযরত সাদ ইবনে মুয়াজ (রাযি.) এর উত্তরে আবু জাহলকে বললেন, তোমরা যদি আমাদেরকে মক্কা মুকাররমায় আসতে বাধা দাও, তবে আমরা তোমাদের পক্ষে এর চেয়ে আরও কঠিন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করব। তোমাদের বাণিজ্য কাফেলা যখন শামের দিকে যায়, তখন মদীনার উপর দিয়েই তো যায়। এখন থেকে তোমাদের যে-কোনও বাণিজ্য কাফেলাকে মদীনার উপর দিয়ে যাতায়াতে বাধা দিতে এবং কোনও কাফেলাকে দেখামাত্র তাদের উপর হামলা চালাতে আমাদের কোন বাধা থাকবে না। ( সহীহ বুখারী, আল-মাগাযী অধ্যায়, পরিচ্ছেদ-২, হাদীস নং ৩৯৫০)।

এর পরপরই মক্কার কাফেরদের একটি বাহিনী মদীনা মুনাওয়ারার নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছে মুসলিমদের গবাদি পশু লুট করে নিয়ে গেল। এহেন পরিস্থিতিতে কাফেরদের তৎকালীন নেতা আবু সুফিয়ান একটি বিশাল বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে শামে গেল। মক্কার সকল নারী-পুরুষ নিজেদের সোনা-রুপা দিয়ে এ ব্যবসায় পুঁজি সরবরাহ করেছিল। কাফেলাটি শামে পৌঁছে বেচাকেনা করল এবং তাতে তাদের দ্বিগুণ মুনাফা হল। অতঃপর তারা পঁচিশ হাজার দীনার (গিনি)-এর মালামাল নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হল । কাফেলায় ছিল এক হাজার মালবাহী উট। চল্লিশজন সশস্ত্র লোক তার পাহারায় নিযুক্ত ছিল। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কাফেলার প্রত্যাবর্তনের খবর পেলেন, তখন হযরত সাদ ইবনে মুয়াজ (রাযি.)-এর চ্যালেঞ্জ মোতাবেক তাদের উপর হামলা করার সিদ্ধান্ত নিলেন। আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণে যথারীতি সৈন্য সংগ্রহের সুযোগ ছিল না। উপস্থিতমত যত জন সাহাবী তৈরি হতে পেরেছিলেন, ব্যস তাদেরকে নিয়েই তিনি মদীনা মুনাওয়ারা থেকে বের হয়ে পড়লেন। সর্বসাকুল্যে লোকসংখ্যা ছিল তিনশ’ তেরজন। তাদের সাথে ছিল সত্তরটি উট, দু’টি ঘোড়া ও ষাটটি বর্ম।

উল্লেখ্য, কোনও কোনও অমুসলিম লেখক এ ঘটনা সম্পর্কে আপত্তি তুলেছেন যে, একটি শান্তিপূর্ণ বাণিজ্য দলের উপর আক্রমণ করার কী বৈধতা থাকতে পারে? সমকালীন কিছু মুসলিম গ্রন্থকারও তাদের এ আপত্তিতে প্রভাবিত হয়ে দাবী করার চেষ্টা করেছেন যে, সে কাফেলার উপর কোনও রকম আক্রমণ চালানো মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উদ্দেশ্য ছিল না। বরং আবু সুফিয়ান নিজের থেকেই বিপদের আশঙ্কায় আবু জাহলের বাহিনীকে আসতে বলেছিল। কিন্তু সহীহ হাদীস ও কুরআনী ইশারা-ইঙ্গিতের প্রতি লক্ষ্য করলে ঘটনার এরূপ ব্যাখ্যা ধোপে টেকে না। বস্তুত সেই সময়কার পরিবেশ-পরিস্থিতি, সে কালের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত রীতি-রেওয়াজ সম্পর্কে জানা না থাকার কারণে এ আপত্তির সৃষ্টি হয়েছে । প্রথম কথা হচ্ছে, আমরা উপরে যে সব ঘটনা উল্লেখ করেছি, তা দ্বারা পরিষ্কার –

বোঝা যায় তখন উভয় পক্ষের মধ্যে এক নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছিল। উভয় পক্ষ যে একে অপরকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে রেখেছিল কেবল তাই নয়; বরং কাফেরদের পক্ষ থেকে উস্কানিমূলক তৎপরতাও শুরু হয়ে গিয়েছিল। দ্বিতীয়ত হযরত সাদ ইবনে মুয়া (রাখি) আগেই তাদেরকে সতর্ক করে দিয়ে এসেছিলেন যে, এখন থেকে আর তাদের বাণিজ্য কাফেলার উপর হামলা চালাতে।

১৭ রমাজান ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের দিন ১৭ রমাজান ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের দিন ১৭ রমাজান ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের দিন ১৭ রমাজান ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের দিন

১৭ , ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের দিন ১৭ রমাজান, ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের দিন ১৭ রমাজান, ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের দিন ১৭ রমাজান, ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের দিন

Related Posts

কত টাকা পাবে মুস্তাফিজ এবারের আইপিএল খেলে

Spread the love

Spread the loveTweetপুরো আইপিএল না খেলতে পারায় প্রায় ৭২ লাখ রুপির মধ্যে মুস্তাফিজ পাবেন মাত্র ১২ লাখ টাকা!! মুস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) পুরো মৌসুম খেলতে দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজে ২ মে দেশে ফিরবেন কাটার মাস্টার। অনেক ক্রিকেট ভক্তের মনে প্রশ্ন, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের অর্ধেক খেলে কত টাকা আয় করবেন ফিজ। এই খেলোয়াড় যত টাকা আয় করুক না কেন, পুরো আইপিএল মৌসুম খেলতে পারবেন না বলে তিনি বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। এবারের আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংস তাকে দলে আনে বেস প্রাইস ২ কোটি টাকায়। চলতি সপ্তদশ আসরে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি তিনি। চেন্নাইয়ের জার্সিতে দারুণ ফর্মে আছেন তিনি। ৫ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় তিনি রয়েছেন ৪ নম্বরে। এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও বাঁহাতি এ টাইগার পেসারকে ফিরতে হচ্ছে দেশে। আগামী ১ মে পর্যন্ত তাকে আইপিএলে খেলার অনুমতি দিয়েছে বিসিবি। তাকে দ্রুত ফেরানোর উদ্দেশ্যে হচ্ছে ঘরের মাঠে আসন্ন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজ। পুরো মৌসুমে না খেলায় স্বাভাবিকভাবেই নিলামের পুরো টাকা পাবেন না টাইগার পেসার। আইপিএলের পারিশ্রমিকের নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ পর্বের ১৪টি ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় থাকলে পুরো টাকাটাই পেতেন তিনি। আর ম্যাচ কম খেললে আনুপাতিক হারে পাবেন পারিশ্রমিক। সেই হারে প্রতি ম্যাচে মুস্তাফিজ ১৮ লাখ ৭২ হাজার টাকার কিছু বেশি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। একই সঙ্গে দৈনিক ভাতা, ব্যক্তিগত ম্যাচসেরার পুরস্কার, উইনিং বোনাসসহ আইপিএলে আরো অর্থ আয়ের উৎস রয়েছে। গ্রুপপর্বের শেষ চার ম্যাচ খেলতে না পারায় এক কোটি ২৮ লাখের কিছু বেশি অর্থ পাবেন দ্য ফিজ। অর্থ্যাৎ এবারের আইপিএল থেকে ভিত্তিমূল্য ২ কোটি রুপি থেকে প্রায় ৭২ লাখ রুপি পাবেন না মুস্তাফিজ। এ সময়টায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের ৫ ম্যাচ খেললে তার আয় হবে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা আইপিএলের এক ম্যাচের চেয়েও অনেক কম।

Read more

যাকাত বন্টনের নির্ধারিত ৮টি খাত

Spread the love

Spread the loveTweetযাকাত বন্টনের নির্ধারিত ৮টি খাত যাকাত বন্টনের নির্ধারিত যে ৮টি খাত রয়েছে সে গুলোর বিস্তারিত :- ফকির- ফকির হলো সেই ব্যক্তি যার নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই। যে ব্যক্তি রিক্তহস্ত, অভাব মেটানোর যোগ্য সম্পদ নেই, ভিক্ষুক হোক বা না হোক, এরাই ফকির। যেসব স্বল্প সামর্থ্যের দরিদ্র মুসলমান যথাসাধ্য চেষ্ট করা সত্ত্বেও বা দৈহিক অক্ষমতাহেতু প্রাত্যহিক ন্যায়সঙ্গত প্রয়োজনটুকু মেটাতে পারে না, তারাই ফকির। কারো মতে যার কাছে একবেলা বা একদিনের খাবার আছে সে ফকীর। মিসকীন – মিসকীন সেই ব্যক্তি যার কিছুই নেই, যার কাছে একবেলা খাবারও নেই। যেসব লোকের অবস্থা এমন খারাপ যে, পরের নিকট সওয়াল করতে বাধ্য হয়, নিজের পেটের আহারও যারা যোগাতে পারে না, তারা মিসকীন । মিসকীন হলো যার কিছুই নেই, সুতরাং যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ অর্থ সম্পদ নেই, তাকে যাকাত দেয়া যাবে এবং সেও নিতে পারবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, ফকির বা মিসকীন যাকেই জাকাত দেয়া হবে, সে যেন মুসলমান হয়। আমেলীন- ইসলামি সরকারের পক্ষে লোকদের কাছ থেকে যাকাত, উসর প্রভৃতি আদায় করে বায়তুল মালে জমা প্রদান, সংরক্ষণ ও বন্টনের কার্যে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ। এদের পারিশ্রমিক যাকাতের খাত থেকেই আদায় করা যাবে। কোরআনে বর্ণিত আটটি খাতের মধ্যে এ একটি খাতই এমন, যেখানে সংগৃহীত যাকাতের অর্থ থেকেই পারিশ্রমিক দেয়া হয়। এ খাতের বৈশিষ্ট্য হলো এতে ফকীর বা মিসকীন হওয়া শর্ত নয়। পক্ষান্তরে, অবশিষ্ট ৫টি খাতে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্থ দূরীকরণে যাকাত আদায় শর্ত।চিত্ত জয় করার জন্য- নতুন মুসলিম যার ঈমান এখনো পরিপক্ক হয়নি অথবা ইসলাম গ্রহণ করতে ইচ্ছুক অমুসলিম। যাদের চিত্ত (দ্বীন ইসলামের প্রতি আকর্ষণ করে) আকর্ষণ ও উৎসাহিত করণ আবশ্যকীয় মনে করে যাকাত দান করা হয়, যাতে তাদের ঈমান পরিপক্ক হয়। এ খাতের আওতায় দুঃস্থ নওমুসলিম ব্যক্তিদের যাকাত প্রদানের ব্যাপারে ফকিহরা অভিমত প্রদান করেছেন। ক্রীতদাস/বন্দী মুক্তি- এ খাতে ক্রীতদাস-দাসী/বন্দী মুক্তির জন্য যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে। অন্যায়ভাবে কোনো নিঃস্ব ও অসহায় ব্যক্তি বন্দী হলে তাকেও মুক্ত করার জন্য যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে। বর্তমান সময়ে ক্রীতদাস প্রথা বিলুপ্ত হওয়ায় এই খাতটি আর বিবেচ্য নয়। ঋণগ্রস্থ- এ ধরনের ব্যক্তিকে তার ঋণ মুক্তির জন্য যাকাত দেয়ার শর্ত হচ্ছে- সেই ঋণগ্রস্থের কাছে ঋণ পরিশোধ পরিমাণ সম্পদ না থাকা। আবার কোনো ইমাম এ শর্তারোপও করেছেন যে, সে ঋণ যেন কোনো অবৈধ কাজের জন্য- যেমন মদ কিংবা নাজায়েয প্রথা অনুষ্ঠান ইত্যাদির জন্য ব্যয় না করে। আল্লাহর পথে- সম্বলহীন মুজাহিদের…

Read more

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You Missed

কত টাকা পাবে মুস্তাফিজ এবারের আইপিএল খেলে

  • By admin
  • May 1, 2024
  • 8 views

যাকাত বন্টনের নির্ধারিত ৮টি খাত

  • By admin
  • March 20, 2024
  • 8 views

ফারুকীর হাত ধরে নাটকে অশ্লীল ভাষা শুরু হয়েছে: আবদুল্লাহ রানা

  • By admin
  • September 15, 2023
  • 8 views
ফারুকীর হাত ধরে নাটকে অশ্লীল ভাষা শুরু হয়েছে: আবদুল্লাহ রানা

Shop Tab

  • By admin
  • September 8, 2023
  • 4 views
Shop Tab

Low back pain (LBP) 0704

  • By admin
  • September 6, 2023
  • 6 views
Low back pain (LBP) 0704

Brac bank career 2023 attractive salary

  • By admin
  • September 6, 2023
  • 4 views
Brac bank career 2023 attractive salary