ভুলকে ভুল হিসেবে গ্রহন করে তা শুধরাব-ডাঃজাহাঙ্গীর কবীর

Spread the love

ভুলকে ভুল হিসেবে গ্রহন করে তা শুধরাব-ডাঃজাহাঙ্গীর কবীর

আসসালামু আলাইকুম আমি ডাঃ মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর। সুস্থ থাকার লক্ষ্যে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা নিয়ে কাজ করছি। সেই লক্ষ্যে দীর্ঘ দিন ধরে আমার রোগীদের লাইফস্টাইল মডিফিকেশনের পরামর্শ দিয়ে আসছি। ইদানিংকালে আমার একটি ভিডিও এবং দুইটি পোস্ট নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমত সুস্থ থাকার জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে আমি একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলাম সেখানে করোনার ভ্যাক্সিন বিষয়ে কিছু তথ্য সহজভাবে বোঝাতে গিয়ে আমার অসাবধানতা বশত ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছিলাম। এ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে আমি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ভিডিওতে যে তথ্যগুলো ভুল ছিল এবং যে কথাগুলো জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে সেসব বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে পূর্বের ভিডিওটি অনলাইন থেকে সরিয়ে নিয়েছি। একইসাথে সকলকে ভ্যাক্সিন দেওয়ার জন্য পরামর্শ এবং উৎসাহ দিয়েছি। এরপরেও কয়েকজন সম্মানিত ডাক্তার আমাকে ভুল বুঝে সরাসরি আমার নাম উল্লেখ করে নানান রকম পোস্ট করেন। তন্মধ্যে একটি পোস্টের স্ক্রিনশট আমি আমার পেইজে শেয়ার করেছিলাম। এছাড়া অন্য একটি জনসচেতনতামূলক পোস্টে উদাহরন স্বরুপ একটি প্রেসক্রিপশন শেয়ার করেছিলাম। ঐ প্রেস্ক্রিপশনটি যিনি লিখেছিলেন তার প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমি তার নাম ও রেজিস্ট্রেশন নাম্বারটি প্রকাশ করিনি। তথাপি এই পোস্টটি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হলে তৎক্ষণাৎ দুটি পোস্টই ডিলিট করে দেই। আমি বিশ্বাস করি আমাদের ডাক্তার সমাজের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনসেবা করে যাচ্ছেন, মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন, এজন্য প্রত্যেক ডাক্তারই আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানিত ও শ্রদ্ধাভাজন। একজন ডাক্তার হিসেবে আমি কখনোই কাউকে অসম্মান করতে পারি না এবং আমি তা করতে চাইও না। তবুও আমার অন্বিচ্ছায় তা হয়ে থাকলে তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। উপরোক্ত বিষয়গুলোর বাইরে আরও যে বিষয়ে সমালোচনা এসেছে তার মধ্যে অন্যতম হল আমার পরামর্শকে কিটো ডায়েট হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই বিষয়ে আমি বহুবার নানান ভিডিওর মাধ্যমে বলেছি যে আমি শুধুমাত্র ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলি না। আমি মূলত পাঁচটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি অটোফেজি, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও মানসিক প্রশান্তির চর্চা করাকে সমানভাবে গুরুত্ব দেই। আমি কখনোই ঔষধ বিরোধী না, আমি সব সময় বলে এসেছি জরুরী চিকিৎসায় ঔষধ অপরিহার্য। তবে লাইফস্টাইল রোগগুলো লাইফিস্টাইল মডিফাই করে প্রতিরোধ করা যেতে পারে এবং সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমিও আমার রোগীদের প্রয়োজনে ঔষধ লিখছি সুতরাং ঔষধের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। আমি সাধারন মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছি যেন স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ঔষধ ছাড়া সুস্থ থাকতে পারেন। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যেসব রোগীরা সরাসরি আমার পরামর্শ নেন আমি তাদেরকে নিয়মিত অবজারবেশনে রাখার চেষ্টা করি এবং কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে আমার পরামর্শের নানান প্রভাব ও প্রতিকারের বিষয়ে আলোকপাত করে থাকি। সর্বপরি আমি মনে করি চিকিৎসক সমাজে আমরা সবাই সহকর্মী, একে অপরের সহযোগী। এখানে রয়েছেন আমার সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষিকাগন, শ্রদ্ধাভাজন বড় ভাই-বোন,বন্ধুরা ও আগামীর সম্ভাবনাময় জুনিয়র ডাক্তারগন। জনস্বার্থে সকল চিকিৎসকই একেকজন যোদ্ধা। করোনা মহামারীর এই চরম দুর্দিনে ডাক্তারদের মত যোদ্ধারাই নিজেদের জীবন ঝুঁকির কথা ভুলে জরাগ্রস্থ মানুষের পাশে থেকেছে এখনো আছে। আজকের পুরো বিশ্ব চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের সাথে জড়িত সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।আমি সকলের প্রতি সম্মান রেখে বলছি মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে তাই আপনারা আমার কোন ভুল ধরিয়ে দিলে আমি তা শুধরে নিব। নিজের ভুলকে আমি ভুল হিসেবে গ্রহন করে তা শুধরে নিব আর আপনাদের কাছেও আমার অনুরোধ আপনারা আমার পূর্বের ভুলগুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। কেননা আমরা তো সকলে মিলে মানব সেবার ব্রতেই চিকিৎসা পেশাকে বেছে নিয়েছি আর সেজন্য আমরা একে অপরের প্রতি সম্মান রেখে একযোগে কাজ করতে পারি। আমি নিজেও একজন চিকিৎসক, সবসময়ই প্রত্যেক চিকিৎসকের সম্মান রক্ষা ও অবদান স্বীকার আমার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। বহু আগে থেকেই আমি নিজেও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও দায়িত্ব নিয়ে সোচ্চার আছি। সেই লক্ষ্যে আমি ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি, রাইটস এন্ড রেসপন্সিবিলিটিস (FDSR) এর সাথে প্রোগ্রাম করেছিলাম, তা আমার পেইজ থেকে শেয়ার করেছিলাম সকলের উদ্দেশে। তবুও মানুষ হিসেবে আমি ভুলের উর্ধে নই। তাই আমার কথায় হয়তো অনেক সহকর্মী – সিনিয়র চিকিৎসক কষ্ট পেয়েছেন কিংবা মনক্ষুন্ন হয়েছেন। আমি তাদের সবার প্রতি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।

উলেখ্য ডা. জাহাঙ্গীর কবীর ফেসবুকে লাইফস্টাইল মডিফিকেশনের পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন এবং অনেকে তার লাইফস্টাইল মডিফিকেশন পেয়ে অনেকের উল্যেখ যোগ্য সফলতা পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে অনেকেই স্বাগত জানিয়ে আসছে এবং তার ভিডিও গুলো লক্ষ লক্ষ বার দেখে আসছে। তার ফেসবুক আইডিতে প্রায় ২ মিলিয়ন ফলোয়ার তাকে অনুসরন করে আসছে।

Related Posts

কত টাকা পাবে মুস্তাফিজ এবারের আইপিএল খেলে

Spread the love

Spread the loveTweetপুরো আইপিএল না খেলতে পারায় প্রায় ৭২ লাখ রুপির মধ্যে মুস্তাফিজ পাবেন মাত্র ১২ লাখ টাকা!! মুস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) পুরো মৌসুম খেলতে দেয়নি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজে ২ মে দেশে ফিরবেন কাটার মাস্টার। অনেক ক্রিকেট ভক্তের মনে প্রশ্ন, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের অর্ধেক খেলে কত টাকা আয় করবেন ফিজ। এই খেলোয়াড় যত টাকা আয় করুক না কেন, পুরো আইপিএল মৌসুম খেলতে পারবেন না বলে তিনি বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। এবারের আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংস তাকে দলে আনে বেস প্রাইস ২ কোটি টাকায়। চলতি সপ্তদশ আসরে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি তিনি। চেন্নাইয়ের জার্সিতে দারুণ ফর্মে আছেন তিনি। ৫ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় তিনি রয়েছেন ৪ নম্বরে। এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও বাঁহাতি এ টাইগার পেসারকে ফিরতে হচ্ছে দেশে। আগামী ১ মে পর্যন্ত তাকে আইপিএলে খেলার অনুমতি দিয়েছে বিসিবি। তাকে দ্রুত ফেরানোর উদ্দেশ্যে হচ্ছে ঘরের মাঠে আসন্ন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজ। পুরো মৌসুমে না খেলায় স্বাভাবিকভাবেই নিলামের পুরো টাকা পাবেন না টাইগার পেসার। আইপিএলের পারিশ্রমিকের নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ পর্বের ১৪টি ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় থাকলে পুরো টাকাটাই পেতেন তিনি। আর ম্যাচ কম খেললে আনুপাতিক হারে পাবেন পারিশ্রমিক। সেই হারে প্রতি ম্যাচে মুস্তাফিজ ১৮ লাখ ৭২ হাজার টাকার কিছু বেশি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। একই সঙ্গে দৈনিক ভাতা, ব্যক্তিগত ম্যাচসেরার পুরস্কার, উইনিং বোনাসসহ আইপিএলে আরো অর্থ আয়ের উৎস রয়েছে। গ্রুপপর্বের শেষ চার ম্যাচ খেলতে না পারায় এক কোটি ২৮ লাখের কিছু বেশি অর্থ পাবেন দ্য ফিজ। অর্থ্যাৎ এবারের আইপিএল থেকে ভিত্তিমূল্য ২ কোটি রুপি থেকে প্রায় ৭২ লাখ রুপি পাবেন না মুস্তাফিজ। এ সময়টায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের ৫ ম্যাচ খেললে তার আয় হবে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা আইপিএলের এক ম্যাচের চেয়েও অনেক কম।

Read more

যাকাত বন্টনের নির্ধারিত ৮টি খাত

Spread the love

Spread the loveTweetযাকাত বন্টনের নির্ধারিত ৮টি খাত যাকাত বন্টনের নির্ধারিত যে ৮টি খাত রয়েছে সে গুলোর বিস্তারিত :- ফকির- ফকির হলো সেই ব্যক্তি যার নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই। যে ব্যক্তি রিক্তহস্ত, অভাব মেটানোর যোগ্য সম্পদ নেই, ভিক্ষুক হোক বা না হোক, এরাই ফকির। যেসব স্বল্প সামর্থ্যের দরিদ্র মুসলমান যথাসাধ্য চেষ্ট করা সত্ত্বেও বা দৈহিক অক্ষমতাহেতু প্রাত্যহিক ন্যায়সঙ্গত প্রয়োজনটুকু মেটাতে পারে না, তারাই ফকির। কারো মতে যার কাছে একবেলা বা একদিনের খাবার আছে সে ফকীর। মিসকীন – মিসকীন সেই ব্যক্তি যার কিছুই নেই, যার কাছে একবেলা খাবারও নেই। যেসব লোকের অবস্থা এমন খারাপ যে, পরের নিকট সওয়াল করতে বাধ্য হয়, নিজের পেটের আহারও যারা যোগাতে পারে না, তারা মিসকীন । মিসকীন হলো যার কিছুই নেই, সুতরাং যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ অর্থ সম্পদ নেই, তাকে যাকাত দেয়া যাবে এবং সেও নিতে পারবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, ফকির বা মিসকীন যাকেই জাকাত দেয়া হবে, সে যেন মুসলমান হয়। আমেলীন- ইসলামি সরকারের পক্ষে লোকদের কাছ থেকে যাকাত, উসর প্রভৃতি আদায় করে বায়তুল মালে জমা প্রদান, সংরক্ষণ ও বন্টনের কার্যে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ। এদের পারিশ্রমিক যাকাতের খাত থেকেই আদায় করা যাবে। কোরআনে বর্ণিত আটটি খাতের মধ্যে এ একটি খাতই এমন, যেখানে সংগৃহীত যাকাতের অর্থ থেকেই পারিশ্রমিক দেয়া হয়। এ খাতের বৈশিষ্ট্য হলো এতে ফকীর বা মিসকীন হওয়া শর্ত নয়। পক্ষান্তরে, অবশিষ্ট ৫টি খাতে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্থ দূরীকরণে যাকাত আদায় শর্ত।চিত্ত জয় করার জন্য- নতুন মুসলিম যার ঈমান এখনো পরিপক্ক হয়নি অথবা ইসলাম গ্রহণ করতে ইচ্ছুক অমুসলিম। যাদের চিত্ত (দ্বীন ইসলামের প্রতি আকর্ষণ করে) আকর্ষণ ও উৎসাহিত করণ আবশ্যকীয় মনে করে যাকাত দান করা হয়, যাতে তাদের ঈমান পরিপক্ক হয়। এ খাতের আওতায় দুঃস্থ নওমুসলিম ব্যক্তিদের যাকাত প্রদানের ব্যাপারে ফকিহরা অভিমত প্রদান করেছেন। ক্রীতদাস/বন্দী মুক্তি- এ খাতে ক্রীতদাস-দাসী/বন্দী মুক্তির জন্য যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে। অন্যায়ভাবে কোনো নিঃস্ব ও অসহায় ব্যক্তি বন্দী হলে তাকেও মুক্ত করার জন্য যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে। বর্তমান সময়ে ক্রীতদাস প্রথা বিলুপ্ত হওয়ায় এই খাতটি আর বিবেচ্য নয়। ঋণগ্রস্থ- এ ধরনের ব্যক্তিকে তার ঋণ মুক্তির জন্য যাকাত দেয়ার শর্ত হচ্ছে- সেই ঋণগ্রস্থের কাছে ঋণ পরিশোধ পরিমাণ সম্পদ না থাকা। আবার কোনো ইমাম এ শর্তারোপও করেছেন যে, সে ঋণ যেন কোনো অবৈধ কাজের জন্য- যেমন মদ কিংবা নাজায়েয প্রথা অনুষ্ঠান ইত্যাদির জন্য ব্যয় না করে। আল্লাহর পথে- সম্বলহীন মুজাহিদের…

Read more

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You Missed

কত টাকা পাবে মুস্তাফিজ এবারের আইপিএল খেলে

  • By admin
  • May 1, 2024
  • 5 views

যাকাত বন্টনের নির্ধারিত ৮টি খাত

  • By admin
  • March 20, 2024
  • 6 views

ফারুকীর হাত ধরে নাটকে অশ্লীল ভাষা শুরু হয়েছে: আবদুল্লাহ রানা

  • By admin
  • September 15, 2023
  • 6 views
ফারুকীর হাত ধরে নাটকে অশ্লীল ভাষা শুরু হয়েছে: আবদুল্লাহ রানা

Shop Tab

  • By admin
  • September 8, 2023
  • 3 views
Shop Tab

Low back pain (LBP) 0704

  • By admin
  • September 6, 2023
  • 3 views
Low back pain (LBP) 0704

Brac bank career 2023 attractive salary

  • By admin
  • September 6, 2023
  • 3 views
Brac bank career 2023 attractive salary